এ আর আহমেদ হোসাইনঃ কুমিল্লা দেবীদ্বার পৌর ছোটআলমপুর গুনাইঘর পূর্বপাড়ায় রবিবার দিবাগত রাত ৩ টার সময় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পিতা মৃতঃ সুন্দর আলীর ছেলে মোঃ জসিম উদ্দিনের (৪৮)এর ঘরে থাকা নগদ ২ লক্ষ টাকা ৩টি গর্ভবতী গাভীসহ আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকার পরিমান প্রয়োজনীয় মালা মাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। জসিম উদ্দিন পেশায় রিকশাচালক ছিলেন।

বাড়ির মালিক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন পাশের এলাকা গুনাইঘর থেকে মাহফিল শেষ করে রাত ১২ টার সময় বাড়িতে এসে নিজ ঘরে গুমিয়ে যান।রাত ৩ টার সময় ঘর থেকে বের হয়ে তার গোয়াল ঘরে আগুন দেখে হাউমাউ করে চিৎকার শুরু করেন পরে তার স্ত্রী মোসাৎ রুবী আক্তারও ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন একে একে পুরো বাড়ির ৩ টি টিনের চৌচালা ঘরসহ আগুন লেগে যায়।

তাৎক্ষনিক ভাবে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিভানোর কোনো পদ্ধতি না পেয়ে পাশের বাড়ির মোঃ শফিউল্লাহ জেলার মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিস কে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার আব্দুর রব রাত ৩:২৫ মিনিটে খবর পেয়ে ৬জন উদ্ধার সহকর্মী নিয়ে ৩:৪৫ মিনিটের সময় ঘটনাস্থলে হাজির হন। উদ্ধার কর্মীরা বাড়ির পাশের খাল থেকে পানি দিয়ে প্রায় ১ ঘন্টা চেস্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রন আনেন।

ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার আব্দুর রব এর কাছে আগুন লাগার সৃত্রপাত জানতে চাইলে তিনি বলেন ঘরের মালিক জসিম উদ্দিন বলেন বৈদুৎতিক শর্ট সার্কিট হতে ওই আগুন লাগতে পারে বলে এমন ধারনাটি আমরা ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে সক্ষম হন।

ওই দিকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানতে চাইলে তিনি বলেন আনুমানিক সাড়ে তিন লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে তাদের ধারনা এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত চেস্টায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মালামাল উদ্ধার করতে পেরেছে বলে তিনি জানান। তবে পরিবারের কোনো সদস্য আহত হয়নি।

ওই দিকে বাড়ির মালিক জসিম ও তার স্ত্রী রুবী বলেন বড় মেয়ে ফেরদোসি বেগম’র (প্রবাসী) জামাতা তাদের প্রয়োজনে ২ লক্ষ টাকা তাদের পরিবারের নিকট রাখেন।ওই টাকা আলমারিতে রাখলে টাকাসহ আলমারি পুরে যায়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সৃত্র মোতাবেক পুড়ে যাওয়া ক্ষয়-ক্ষতির সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় ও পরিবারেরআ পক্ষ হতে বলেন
গোয়াল ঘরে থাকা ৩ টি গাভীর বাজার মূল্যে আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা দামের গর্ভবতী ১টি গাভী পুড়ে যায়। বাকী ২টি গাভীর দেহ পুড়ে যাওয়ার কারনে বাচানো আশংঙ্কাজনক।

পুড়ে যায় ২৫ হাজার টাকার মূল্যে ১টি ফ্রিজ, ১টি স্টিলের আলমারী,৩টি কাঠের আলমারী ৫ টি কাঠের খাট,২টি সেলাই মেশিন, কাঠের সুটকেচ ১ টি, ঘরের ড্রামে থাকা ১৫ মন চাউল, ল্যাপ, তোষক, আলমারীতে থাকা জমির খতিয়ান, ৩ টি টিনের কাঠের ঘরসহ প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অসহায় হয়ে পরি আমরা পরিবার, ৪ ছেলে ২ মেয়ে নিয়ে বাচাঁ এখন কস্টস্বাধ্য।

ওই ঘরে ভাড়া থাকা ২ টি রোমের ভাড়াটিয়া সুমন মিয়া ও তার স্ত্রী তানিয়া বলেন আমরা লোক সংখ্যা বেশি থাকায় প্রয়োজনীয় মাল উদ্ধার করতে পেরেছি, তবে ১টি খাট ও ১টি কাঠের সুটকেসয়ে থাকা কাপড় পুড়ে যায়, অপর ভাড়াটিয়া সাইফুল ইসলাম বলেন তাদের তেমন কিছু মালামাল ছিল না।

আগুন লাগার ঘটনায় পাশের বাড়ির ইউসুব আলীর ছেলে মোঃ ওহাব আলী ও নজরুল ইসলাম বলেন আমরা জোর স্বরে চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি শুধু আগুন আর আগুন ছুটে যাই তাদের বাড়িতে কোনো উপায় না পেয়ে পল্লী বিদুৎ অফিসে ৪টা ৪২ মিনিটে ফোন করার চেস্টা করি তবে কেউ ফোন রিসিভ করেনা পরে রাত ৫:১৮ মিনিটে ফোন দিলে পল্লী বিদুৎ অফিস থেকে ওই এরিয়ার লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ওই ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাকিবুল হাসান ও পৌর কমিশনার মোঃ মুজিবুর রহমান ছুটে যান। নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান নগদ ১০ হাজার টাকা পরিবার কে সহায়তা দান করে সর্বস্তরের মানুষ কে তাদের মানবীয় দৃস্টিকোনো হতে অসহায় পরিবারের প্রতি এগিয়ে আসার আহবান করেন।

ওই ঘটনায় ছোটআলমপুর আমিন বাড়ির মসজিদের ইমাম মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক উপস্থিততি লোকজন ঘটনা দেখতে আসলে অসহায় পরিবারের প্রতি সহায়তায় এগিয়ে আসার কথা বলে নগদ ১৫ হাজার টাকা জনগনের নিকট থেকে উঠিয়ে মানবসেবায় ওই পরিবাররকে দিতে সক্ষম হন।