সুজন মজুমদারঃ বরুড়ায় মুলার বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে চাষীরা মুলা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে। সরজমিনে ঘূরে দেখা গেছে, উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মুলার ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। বছরের আগষ্ট মাসের দিকে বীজ বপন করা হয়। অক্টোবরের শেষের দিকে ফলন মাঠ থেকে সংগ্রহ করে বাজারে তোলা হয়।

বরুড়া উপজেলার আদমপুর, হরিপুর, খোশবাস, মুগুজি, রাম্মহন, নবীপুর, বাসতলী, মহেশপুর, শরাফতি, বিজয়পুর, রাজাপুর, আগানগর, মধুপুর, জালগাও, এগারগ্রাম, বাতাইছড়ি, আরিফপুর, অলিতলা সহ বিভিন্ন গ্রামে মুলার ভালো ফলন হয়।

মুলা চাষী সফিকুল ইসলাম মজুমদার জানান, এ বছর তিনি ১ বীঘা জমিতে মুলার চাষ করেন। এতে তার উৎপাদন বাবদ খরচ হয় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। বিক্রি হয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। প্রতি বছরেই তিনি মুলা চাষ করে থাকেন। মুলা তোলার আগে অনেক কৃষক শাক বিক্রি করেও ব্যাপক লাভবান হন।

পুষ্টিবিদেরা বলেন, মুলার মেলা পুষ্টিগুণ। যকৃৎ ও পাকস্থলী পরিষ্কারে মুলার জুড়ি মেলা ভার। নিয়মিত তাই খাবার টেবিলে মুলা রাখতেই পারেন। এছাড়াও যকৃৎ ও পাকস্থলী বিষমুক্ত করতে পারে মুলা। রক্তে অক্সিজেন বাড়ায়। যকৃৎ সুরক্ষা করে। হৃদযন্ত্র সুরক্ষা করতে পারে মুলা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রদাহ ও অকালবার্ধক্য দূর হয়। রক্তনালি শক্তিশালী করে। উচ্চ পুষ্টিগুণ। ত্বকের জন্য ভালো। মুলায় জলীয় পরিমাণ বেশি থাকায় এটি শরীরকে আর্দ্র রাখে।

এ বিষয়ে বরুড়া উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল আলতাফ (রবি) জানান, বরুড়ায় অন্যান্য এলকার চেয়ে এখানে মুলার চাষ কম হয়। গত কয়েক বছর ধরে মুলার চাষ তুলামূলক বেড়েছে। এ বছর মুলার লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৮০ থেকে ৯০ হেক্টের। চাষাবাদ হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ হেক্টর জমিতে। ১ বীঘা মুলা চাষে ব্যায় হয় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। প্রতি বীঘায় উৎপাদন হয় ১০ টন মুলা। বিক্রি হয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। চাষাবাদ সহলভ্য ও ফলন ভালো হওয়ায় আশা করা হচ্ছে দিন দিন মুলার চাষ বৃদ্ধি হবে।