মো.জাকির হোসেনঃ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ইছাপুরা গ্রামে পর্তুগাল প্রবাসী হাবিবুল্লাহ প্রকাশ্যে আমির হোসেন এর স্ত্রী তামান্না আক্তার (১৯) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহতের বাবার পরিবারের দাবী তামান্নাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ বলছে ময়নাতদন্তেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের মহুরম আলী (অহিদ) এর ছেলে পর্তুগাল প্রবাসী হাবিবুল্লাহ প্রকাশ্যে আমির হোসেন এর সাথে কুমিল্লা সদর উপজেলার সাতোরা চম্পক নগর গ্রামের রওশন ইকবাল ভূইয়া রতন এর মেয়ে তামান্না আক্তার এর সাথে গত গত ফেব্রুয়ারী মাসে বিয়ে হয়। তামান্না আক্তার বর্তমানে চান্দিনা দোল্লাই নবাবপুর বিশ^বিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে অর্নাসে অধ্যায়নরত ছিল। তার স্বামী আমির হোসেন বিয়ের এক মাস পর বিদেশে চলে যায়। ১৫ দিন পূর্বে বিদেশ থেকে বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কলহরের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে তামান্নার উপর নির্যাতন চালায়। এ নিয়ে উভয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মনমালন্য চলছিলো। মঙ্গলবার দুপুরে তামান্নার ঘরের দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করতে থাকে। পরে স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তামান্নাকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে তামান্নার বাবা রওশন ইকবাল ভূইয়া রতন, কুমিল্লা ইট ভাটার সমীতির সেক্রেটারী মোঃ ফরহাদ হোসেন ও ফুফা হারুর অর রশিদ জানান, মেয়ে বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই তার স্বামী ও শশুর শাশুরি শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তামান্না আক্তারকে মঙ্গলবার পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

তারা আরো জানান, আমির হোসেনের বিদেশের কাগজপত্র ও পার্সপোট শশুর বাড়িতে ছিল কিন্তু ঘটনার দিন ভোরে সে কাউকে কিছু না বলে শ্বশুর বাড়ীতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসে। আমরা প্রশাসনের কাছে তদন্তপূর্বক সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ^াস জানান, আমি বিষয়টি শুনে এবং ঘরের দরজা ফিটকারি ভেঙ্গে লাশ উদ্ধার করি। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল রির্পোট ছাড়া আমরা মৃত্যুর সঠিক কারণ বলতে পারছি না। তবে সঠিক কারণ বের করার আইনগত প্রক্রিয়াধীন অব্যাহত থাকবে।