কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বারেশ্বর গ্রমে ব্রিটিশ শাসনামলের খননকৃত সরকারি একটি ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এলাকার কৃষকদের সেচ ও পানি নিষ্কাশনের কাজে ব্যবহৃত পুরোনো খাল বারেশ্বর তোরাব খাঁ বাড়ি হতে ঘুংগুর নদীর সংযোগ পর্যন্ত খালটির পশ্চিমাংশ দখল করে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ করছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।

জেলা প্রশাসক, বুড়িচং উপজেলা ভূমিঅফিসের সহকারী কমিশনার সহ বিভিন্ন দপ্তরে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আরো জানা যায়, কৃষকদের স্বার্থ ব্যহত করে পানির প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে স্থানীয় সাইফুল ইসলাম সোহেল গং এতিমখানা, মাদ্রাসা ও মসজিদের নামে কোন প্রকার অনুমোদনহীন ভাবে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। এতে স্থানীয় কৃষকরা আপত্তি করলেও তাতে কর্ণপাত না করে ক্ষমতার দাপটে ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। বর্ষা মৌসুমে নিম্নাঞ্চলের একমাত্র খালটি বন্ধ হলে কৃষক ও এলাকাবাসীর লোকজন পানিবন্দি হয়ে পরা ও কৃষি সেচ কাজে প্রতিবন্ধকতার আংকা জানিয়ে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে খালটি রক্ষার আবেদন জানান।

এবিষয়ে খালের ওপর ভবন নির্মাতাদের একজন স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন, খালটি এখন ব্যবহৃত হয় না। তাছাড়া এখানে আমরা ভবন নয় একটি মসজিদ কমপ্লেক্স ভবন করছি। ব্যাক্তিগত কোন ভবন নির্মাণ করছি না এখানে। খালের কিছু অংশ ব্যবহার করছি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাজাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার রিয়াজ মাহমুদ বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেছে।

পুরোনো এ সরকারি খালটি ভরাটের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশন (ভূমি) তাহমিদা আক্তার ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের ডেকে নিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং খালের পানি প্রবাহ অব্যাহত রাখতে বলেন। একাধিক নিষেধ করার পরেও তা উপেক্ষা করে ভবন নির্মানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জেনেছি। এবিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে।