আশিকুর রহমানঃ কুয়াশায় আচ্ছন্ন প্রকৃতি। হিমেল হাওয়া বাড়াচ্ছে শীতের তীব্রতা। তবুও জীবিকার তাগিদে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কৃষক-কৃষানীরা এখন ইরি-বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে।

সরজমিনে ঘুরে দেখাযায়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে ইতি মধ্যে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপনের কাজ পুরো দমে শুর হয়ে গেছে। কৃষকরা এক অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে তাদের জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ শুরু করেছে। এ ফসলের খরচ সবচেয়ে ব্যায়বহুল হলেও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কৃষকরা অতান্ত গুরুত্বের সাথে বোরো ধানের চাষবাদ করে আসছে। হিমেল হাওয়া ও শীতকে উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে হাতে বোর ধানের চারা নিয়ে মাঠে কাজ করছে পুরষ, কিশোর শ্রমিকরা। এছাড়াও দেখাযায়, বোর ধান আবাদে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সহযোগিতা করতে নিরব নেই নারীরাও। জমি তৈরী থেকে শুরু করে চারা উঠানোর কাজেও নারীদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ৮ হাজার ১ শ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাহাবুবুল হাসান জানান, বিগত দিনে এই উপজেলায় বোরো, আউশ ও আমন ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে। এবারও বারো ধানের বাস্পার ফলন হবে এমন লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সকলের সম্মেলিত প্রচেষ্টায় এবারও ধানের বাম্পার ফলন হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সার-কীটনাশকের চাহিদা পুরণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সার-কীটনাশকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার কারণে সার-কীটনাশকের সঙ্কটের কোন সম্ভাবনা নেই এই উপজেলায়।

কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, বিগত বছরের ন্যায় এবারও বোরো ধানের ভরা মৌসুমে সার ও সেচ কাজের জন্য সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে ইরি-বোরোতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষক আবদুর রহিম আপু, মাহাবুব আলম মেম্বার, ময়নাল হোসেন জানায়, এখন পর্যন্ত আাবহাওয়া ভালো আছে। সামনের দিকে যদি আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে আশানানুরূপ ফলন উৎপাদন করা সম্ভব।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: