কুমিল্লার লাকসামে করোনা প্রতিরোধে বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা। কিন্তু তাতেও লাকসামের মানুষ ঘরে থাকছে না, মানছে না প্রশাসনের বিধি নিষেধ। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে লাকসাম বাজারের কাপড় ও গার্মেন্টস ব্যবসায়িরা দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও বর্তমানে প্রত্যেক দোকানের এক সাটার খোলা রেখে চলছে বেচা-কেনা। সকাল হলেই দোকানগুলোতে লেগে থাকে উপচেপড়া ভীড়।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজারের হাট বাজারে ও কাপড়ের দোকান গুলোতে সামজিক দূরত্ব বজায় না রেখে ক্রয়-বিক্রয়ে মেতে উঠেছে ক্রেতা-বিক্রেতারা। দূরত্ব বজায় না রেখে গাঁ ঘেষাঘেষি করেই যে যার প্রয়োজন মেটাতে চলে এসেছে বাজারে। আর বেশিরভাগ মানুষকেই ব্যাক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পড়তে দেখা যায়নি। এতে বাড়ছে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি। করোনা ভাইরাসের তোয়াক্কা না করেই যে যার মতো কেনাকাটা করছে বাজারে।

অপরদিকে উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলার সব কটি হাট বাজার পূর্ববতী স্থান থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের মাঠে স্থানান্তর করে। তাতেও সামাজিক দূরত্ব মানাতে পারছে না প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১৪মে) সকালে লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজারে দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতার উপচেপড়া ভিড়। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে কেনাকাটা করছে। প্রথমদিকে ক্রেতা-বিক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চললেও ইদানিং সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউ। ফলে করোনাভাইরাসে সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কোভিড-১৯ এর সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, সর্বমোট নমুনা সংগ্রহ ২৬৩জনের, গৃহীত রিপোর্ট ২৪৯জনের, প্রক্রিয়াধীন রিপোর্ট ১৪জনের, এ পর্যন্ত পজেটিভ ১৪ জনের, নেগেটিভ ২৩৫। সুস্থ হয়েছেন ৬ জন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল আলী বলেন, মার্কেট দোকানপাট যদি স্বাস্থ্য বিধি মেনে না চলে তাহলে করোনা ঝুঁকি আরো বাড়বে। এমনিতেই দক্ষিণ কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ নিজাম উদ্দিন বলেন, আমরা বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং বাজারে আগত মানুষদের সামাজিক দূরত্ব এবং প্রয়োজন শেষে বাড়ীতে যাওয়ার কথা বলছি। সাধারণ মানুষ যেন অপ্রয়োজনে ঘর থেকে না বের হয় তার জন্য বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.কে.এম সাইফুল আলম বলেন, মানুষকে সচেতন করতে প্রথম থেকেই উপজেলা প্রসাশন দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহীনি বিভিন্ন পদক্ষেপ চালাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যে সকল মার্কেট দোকানপাট ও মিল ফ্যাক্টরি খোলা রাখা হয়েছে তার প্রত্যেকটিতেই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: