কুমিল্লা শহরের স্বনামধন্য এক মুসলিম পরিবারে জন্ম আফজল খানের। পিতা মরহুম মোঃ ছাদেক আলী খান, মাতা মরহুমা সাজেদা খানম। ছিলেন। রামমালা রোডের পৈত্রিক বাড়িতেই ১৯৪৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী জন্মগ্রহন করেন। পারিবারিক গন্ডিতেই ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রথমিক শিক্ষা গ্রহন করেন আফজল খান।

পরবর্তীতে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যপীঠ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ছাত্রজীবনের পথ চলা। ১৯৬৫-৬৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ভিপি ৬০ এর দশকের জেলা ছাত্রলীগ নেতা হিসাবে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন ও ৬৯ এর গণঅভ্যুথান সহ ৭০ এর নিার্বচনে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় সক্রিয় নেতৃত্বে দান করে আফজল খান ধীরে ধীরে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন একজন সাহসী নেতা হিসেবে। রাজনৈতিক কর্মকান্ড আর আন্দোলন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া আফজল খানকে অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়েছে কুমিল্লার মানুষের জন্য কথা বলতে গিয়ে। কুমিল্লার ছাত্রজনতার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে সামরিক বাহিনীর নিকটও নির্মম নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে অসংখ্যবার। শিক্ষা জিবনে বিএ, বিএড ও এলএলবি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন নিজ যোগ্যতায়।

পরবর্তীতে কুমিল্লার রাজনৈতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন কুমিল্লা শহর এবং কোতয়ালী থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে। সাবেক শ্রম সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন কুমিল্লা জেলা আওয়ামীলীগের। নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের, ছিলেন যুগ্ম আহবায়ক।

মুক্তিযুদ্ধে আফজল খানের ভূমিকা ছিলো অগ্রভাগে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে হাতিমারা ইয়ূথ ক্যাম্প চীপ হিসেবে দায়িত্ব পান, মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।

আফজল খান যেসব দায়িত্ব পালন করেছেন তার তুলনামূলক চিত্র হলো স্বাধীনতার পর প্রথম নির্বাচিত কুমিল্লা পৌরসভার মেয়র ছিলেন, সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ সমবায় ইউনিয়নের। পরিচালক ছিলেন ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই)। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার, কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি হিসেবেও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন, কুমিল্লা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন বার বার, জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পান আফজল খান, ল্যান্ড মরগেজ ব্যাংকের কুমিল্লার চেয়ারম্যান ছিলেন। বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিঃ এর নির্বাচিত সভাপতিও ছিলেন বার বার, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক ও কুমিল্লা জেলা চেয়ারম্যান ও দৈনিক ময়নামতির পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আফজল খান যে কারনে কুমিল্লার মানুষের নিকট শ্রদ্বেয় তা হলো আফজল খান কুমিল্লাকে আলোকিত করতে নিজ অর্থে গড়েছেন অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আফজল খানের গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলুর মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা বঙ্গবন্ধু ‘ল’ কলেজ, কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুল, জালুয়া পাড়া আফজল খান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, আফজল খান কারিগরী ও বাণিজ্যিক মহাবিদ্যালয়, নার্গিস আফজল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, নার্গিস আফজল কারিগরী ও কমার্স কলেজ, নার্গিস আফজল কিন্ডার গার্ডেন, জারখন্ড আফজল খান সাইন কিন্ডার গার্ডেন, শেখ ফজিলাতুন্নেছা কারিগরী কলেজ, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মডার্ন হাইস্কুল, ছাদেকিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা, গোবিন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৯টি।

সার্ক চেম্বারের প্রতিনিধি হিসাবে ভারত, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের বিভিন্ন সেমিনারে যোগদান করেছেন অসংখ্যবার। এফ বি সি আই এর প্রতিনিধি হিসাবে ১৯৮৮ সালে জেদ্দায় ইসলামিক চেম্বারের আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে যোগদান করেন। সমবায়ের প্রতিনিধি হিসাবে ১৯৯৪ সালে জাপানে আর্ন্তজাতিক সমবায়ী সম্মেলনে অংশগ্রহণ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ আফজল খানের ছিলো প্রতি বছরের যোগদান।

সমবায় আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসাবে স্বর্ণপদক লাভ করেন। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় বৃক্ষ রোপনে স্বর্ণ পদক লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: