করোনাভাইরাস দুর্যোগে দলের নেতাদের পাশাপাশি সব সংসদ সদস্যকে (এমপি) অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার এ নির্দেশ দলের ১২০ জন এমপি পালন করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তথ্য এসেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে এ তথ্য জানিয়েছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সাংসদের বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে মনোনয়ন পাওয়া। এছাড়া সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও দুই-তিনবার নির্বাচিত কয়েকজন সাংসদও স্থানীয় জনগণের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার বর্তমান সাংসদ নাছিমুল আলম চৌধুরী এবং সাবেক সাংসদ জাকারিয়া তাহের সুমন করোনাভাইরাস দুর্যোগে সময় এলাকার মানুষ থেকে অনেক দুরে রয়েছে । এই নিয়ে বরুড়ার স্থানীয় রাজনীতিতে কিছুটা নেতিবাচক সমালোচনা চলছে । এছাড়া প্রতিদিন বরুড়া উপজেলার করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও, এখনো কোন ধরনের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা বরুড়া সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গড়ে উঠেনি  । যার ফলে প্রতিনিয়ত বরুড়া উপজেলার করোনা রোগীদের চিকিৎসা জন্য কুমিল্লা অথবা ঢাকায় যেতে হচ্ছে । তবে থানা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাংসদ নাছিমুল আলম চৌধুরী  যোগাযোগ এবং ভিডিও কলে সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর রাখছে বলে জানা যায় ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় নেতা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান এএনএম মইনুল ইসলাম করোনা ভাইরাস দুর্যোগের সময় বরুড়ার বিভিন্ন এলাকায় নিজে গিয়ে খোঁজ খবর রাখছে । যা সত্যিকারের প্রশংসার দাবিদার বলে জানান ।

দলে নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও দলের বেশিরভাগ সাংসদ এ দুর্যোগে নির্বাচনী এলাকার জনগণের পাশে না থাকায় সংসদ নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নাখোশ বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সব দল মিলিয়ে ২২৫ সংসদ সদস্য নিজ এলাকার জনগণের পাশে নেই। তাদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত বেশিরভাগ সাংসদই জনসেবামূলক কাজে নেই। সরাসরি নির্বাচন করে নৌকা নিয়ে বিজয়ী ১৯ নারী সাংসদও এ দুর্যোগে মাঠে নেই বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা যারা আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই নিষ্ক্রিয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ব্যবসায়ী সাংসদের কর্মকাণ্ডও হতাশাজনক দেখা গেছে প্রতিবেদ

এদিকে স্থানীয় লোকজন বলছেন, যেকোনো দুর্যোগে ভরসার কেন্দ্রে থাকেন সাংসদ। সবাই তাঁর কাছে ছুটে যান। দরপত্র থেকে শুরু করে এলাকার সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন সাংসদ। কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির চাল, গমও তাঁর নির্দেশনায় ভাগাভাগি হয়।

সব দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণেও নেতৃত্ব দেন সাংসদ। এবার ভিন্ন চিত্র। করোনার ভয়ে এলাকায় থাকছেন না অনেক সাংসদ। এবার ত্রাণের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের হাতে থাকায় এলাকায় থাকতে সাংসদের তেমন আগ্রহ নেই বলেও মনে করছেন অনেকে।

source: কালের কন্ঠ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: