১৪ বছরের কিশোরীকে বিয়ে করা সেই বৃদ্ধ বর রিক্সাচালক সামছুল হককে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লার লালমাই থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার উপজেলার হরিশ্চর একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় তার হেফাজত থেকে ওই কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার ভোরে থানার ওসি মো. আইয়ুব জানান, এই অসম দম্পত্তি এখন থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাদের কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুক্রবার সবদিক খতিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ওই দম্পতিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি চক্র অপপ্রচারে নামে। স্বামীর সঙ্গে ছবিটি ‘কনের বাবার সঙ্গে ছবি’ বলে প্রচারণা চালালে রীতিমতো হৈ-চৈ শুরু হয়। দুপুরের দিকে ওই দম্পতি ভিডিও লাইভে এসে তাদের বিয়ের বিষয়টি নিয়ে কাউকে অপপ্রচার না করার অনুরোধ জানান।

কনে মরিয়ম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত হলেও ষাটোর্ধ্ব শামুর সংসারে থাকার সংকল্প ব্যক্ত করে। কিন্তু সন্ধ্যায় কনের মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার মেয়েকে ফুসলিয়ে অপহরণ করার অভিযোগ এনে থানায় জানালে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। নব দম্পতিতে ডেকে আনা হয় থানায়। এখন চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। আইনগত সবদিক ও কাগজপত্র এবং কনের বয়স পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পথেই হাঁটছে লালমাই থানা পুলিশ। রাতে এমন ইঙ্গিতই দিলেন থানার ওসি মো. আইয়ুব।

ওসি মো. আইয়ুব জানান, গত দুইদিন ধরে এ বিয়ের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছিল। বিষয়টি নিয়ে বড় বড় মিডিয়া কেন এমন করছে? এ সময়ে পুলিশ ব্যস্ত করোনা নিয়ে, আর সমাজের লোকজন ব্যস্ত ওদের বিয়ে নিয়ে। এটা কি ঠিক হচ্ছে?

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার মেয়ের মা তাছলিমা আক্তার থানায় লিখিত অভিযোগ করে বলেছেন, তার নাবালিকা মেয়েকে শামছুল হক শামু প্রলোভন ও ফুসলিয়ে অপহরণ করেন।

তাই সন্ধ্যার দিকে তাদেরকে (নব দম্পতি) থানায় আনা হয়েছে। শামুকে গ্রেফতার করা হবে কিনা, এ বিষয়ে ওসি জানান, থানায় উভয়কে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মেয়ের বর্তমান বয়স, ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রকৃত বয়স নির্ণয়, জন্ম সনদ, বিয়ের রেজিস্ট্রিসহ আরো অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার দিনের মধ্যেই হয়তো এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।

এর আগে গত ১০ মে জেলার লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউপির পেরুল গ্রামের শামছুল হক শামু একই গ্রামের পশ্চিম পাড়ার ইমাম হোসেনের মেয়ে মরিয়ম আক্তারকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর ও এক লাখ টাকা উসুল দিয়ে বিয়ে করেন। মরিয়ম আক্তার স্থানীয় পেরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। স্কুলে যাওয়া-আসার সময় সে শামুর রিকশায় যাতায়াত করতো। তার ছোট এক মেয়ে নবাগত স্ত্রীর সঙ্গে একই ক্লাসে পড়ে।

বিয়ে প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার দুপুরে শামু সাংবাদিকদের জানান, সব আইনগত দিক দেখেই সে দূর-সম্পর্কের নাতনি মরিয়মকে বিয়ে করেন। সে অষ্টম শ্রেণিতে পড়লেও বয়স ২০ বছর তিন মাস। এর প্রমাণাদি তার কাছে আছে। কিন্তু তাদের বিয়ে নিয়ে কিছু লোক ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

নববধূ জানান, যে ছবি আমার স্বামীর সঙ্গে আছে, এটা আমার বাবা বলে কেউ কেউ ফেসবুকে দিচ্ছে, এটা কেমন কথা, আমার তো বাবা আছে, সে ঢাকায় থাকে। ৬০ বছরের বৃদ্ধকে বিয়ে করা প্রসঙ্গে সে জানায়, আমাদের দীর্ঘদিনের পরিচয়, যোগাযোগ ও প্রেম। এখানে বয়স কোনো বাধা নয়, আমি মরণ পর্যন্ত শামুর সঙ্গে থাকতে চাই।

এর আগে বিয়ের বিষয়ে বুধবার মরিয়মের বাবা ইমাম হোসেন জানান, শামু একজন রিকশাচালক। তার ঘরে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তিনি আমার বাড়িতে কাজ করতেন। তার মেয়েও আমার মেয়ের সঙ্গে একই ক্লাসে পড়ে। আমি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার অনুপস্থিতিতে পরিবারে বিভিন্ন কাজ তিনি করে দিতেন। তাকে আমি খুব বিশ্বাস করতাম। তিনি আমার মেয়েকে নানা প্রলোভন দিয়ে বিয়ে করেছেন। বয়স্ক একটা মানুষের সঙ্গে আমার মেয়ে কিভাবে সংসার করবে? আমি গরিব বলে কারো কাছে বিচার পাচ্ছি না। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ দিকে থানায় অভিযোগকারী কনের মা তাছলিমা আক্তার জানান, শামু আমাদের বাড়িতে কাজ করার সুযোগে এতো বড় সর্বনাশ করবে তা ভাবিনি। তার বয়স ৬৫, স্ত্রী ও ছয় ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তিনি বিয়ের নামে আমার মেয়ের জীবনটা তছনছ করে দিয়েছেন। তিনি শামুর শাস্তি দাবি করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: