ডেস্ক রিপোর্টঃ বিএনপি উপজেলা এবং জেলা থেকে রেজুলেশন করে একক দলীয় প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করে তার অনুকুলে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ বরাদ্ধ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় প্রার্থীর পক্ষে অদৃশ্য কারণে প্রতীক বরাদ্ধ না দেওয়ার কারণে সকল প্রস্তুতি থাকা সত্বেও আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিতব্য কুমিল্লার নবগঠিত লালমাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। কেন্দ্রের কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে না  পারায় হতাশ হয়ে পড়ছে উপজেলা বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর সাথে আতাঁতের অভিযোগ তুলা হয়েছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড.খন্দকার মোশারফ হোসেন মঙ্গলবার বলেছেন,লালমাই উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি কেন অংশ নেয়নি এটা মহাসচিব বলতে পারবে আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। যদিও দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচনে অংশ নেয়ার।

১৬ এপ্রিল  সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। উপজেলা ও জেলা কমিটি প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে প্রতীকের জন্য কেন্দ্র পাঠালেও অদৃশ্য কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপি প্রতীক দেয়নি। এতে লালমাই উপজেলার প্রথম নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না উপজেলা বিএনপি। এনিয়ে উপজেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের  মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।  এ কথা নিশ্চিত করেছেন এ নির্বাচনী এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুইয়া।

সূত্র জানায়,কুমিল্লার ১৭তম  লালমাই উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরই সদর দক্ষিণ উপজেলা ও লালমাই উপজেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে একাধিকবার সভা করে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রদান করা হয় সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চৌধুরীর কুমিল্লা নগরস্থ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। এখানে সবার উপস্থিতিতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনে অংশ গ্রহনে ইচ্ছুক তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ভোটাভুটির মাধ্যমে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয় সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য হোসেন মুহাম্মদ ইকবাল মজুমদার দুলালকে। ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রার্থী মনোনয়নের এই প্রক্রিয়া  কুমিল্লা বিএনপির জন্য বিরল ঘটনা। পরে উপজেলা কমিটি জেলা কমিটির সাথে বৈঠক করে সর্বোসম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান প্রার্থী পরিবর্তন করে দলের সিনিয়র নেতা আবুল কাশেমকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তেও কুমিল্লা জেলা ও লালমাই উপজেলা নেতাকর্মীরা সন্তুষ্ট হয়। মনোনয়ন চুড়ান্ত করে দলীয় প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রে আবুল কাশেমের নাম পাঠায়। কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে পাঠায় দলীয় প্রতীকের জন্য। কিন্তু অদৃশ্য কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপি দলীয় প্রার্থীর অনুকূলে কোন প্রতীক প্রদান করেননি। যদিও সারা দেশে বিএনপি তৃণমূল পর্যায়ের সকল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে আসছে। কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে যায় লালমাই উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

এ বিষয়ে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসনের বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা  মোবাশ্বের আলম ভুইয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমি বলতে পারব না,কেন্দ্র বলতে পারবে। সারা দেশে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও কেন লালমাই উপজেলার প্রথম নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করছে না তা একমাত্র দলীয় মহাসচিব বলতে পারবেন। আমরা নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা এবং জেলা কমিটি ঐক্যমত হয়ে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে প্রতীকের জন্য কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু প্রতীক না দেওয়ায় নির্বাচন করতে পারলাম না। এ কারণে আমাদের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেন, উপরের সিদ্ধান্তে আমরা লালমাই উপজেলা নির্বাচন বয়কট করেছি। এর বেশী তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি।

এ দিকে, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্ধ না দেওয়ার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে লালমাই উপজেলা বিএনপি ও এর সকল অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা কর্মী অভিযোগের তীর দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দিকে ছুঁড়ে বলেন,আমাদের প্রিয় নেত্রী ও গণতন্ত্রের মা ম্যাডাম খালেদা জিয়া যদি আজ জেলের বাহিরে থাকতেন তাহলে অবশ্যই আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতাম। আওয়ামীলীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দিতাম না। নির্বাচনের দিন তারা কেন্দ্র দখল করে নিলেও নির্বাচন পর্যন্ত তারা আমাদের সাথে মাঠে থাকতে বাধ্য হতো। পরিচয় গোপন রাখা এসব নেতাকর্মীরা আরো বলেন, লোকমুখে শুনি ,দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা মহাসচিবের বন্ধু পরিচয়ধারী কুমিল্লার এক নেতা মধ্যস্থতা করে কুমিল্লার সন্তান ও বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর সাথে আতাঁত করে নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অনেক চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী  ড.খন্দকার মোশারফ হোসেন ১৭ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল পোনে ১০টায় এই প্রতিবেদককে বলেছেন,লালমাই উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি কেন অংশ নেয়নি এটা মহাসচিব বলতে পারবে আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। যদিও দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচনে অংশ নেয়ার। যেহেতু আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা সুতরাং আমি কিছুই বলতে পারব না। আপনি বরং আমাদের মহাসচিবের সাথে কথা বলেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: