কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় ঘরে আগুন লেগে নিহত নববধূ ইয়াসমিন আক্তারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাকে প্রথমে চেতনাশক খাইয়ে পরে ঘরে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

নিহত ইয়াসমিন আক্তার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের ডেউয়াতলী গ্রামের রেজাউলের স্ত্রী। ভালোবেসে ইয়াসমিনকে বিয়ে করেন রেজাউল।

ইয়াসমিনের ছোট ভাই রাকিব হাসান বলেন, আমার বোনকে বিয়ে করেই বিদেশে চলে যান দুলাভাই। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিনি ছুটিতে
দেশে আসেন। এরপর পরিবারের লোকজনসহ কাবিন করে আমার বোনকে তাদের বাড়িতে তুলে নিয়ে যান। বিয়ের পর দুলাভাই রেজাউলের সৎ মায়ের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো আমার বোনের। তিনি টাকার জন্য আমার বোনকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। মৃত্যুর দুইদিন আগেও আমার বোনকে প্রচুর মারধর করেছেন তিনি। আপা সেই ছবি আমাদের কাছে ইমোতে পাঠিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) রাত ৯টার দিকে আপা আমাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিল। সেই সময় তার সৎ শাশুড়ি চটপটি এনে আমার বোনকে খাওয়ায়। পরে ফোনে আপা বলে- তার শরীর নাকি খারাপ লাগছে, ঘুমাবে। এই বলে ফোন রেখে দেয়। পরদিন সকালে দুলাভাই রেজাউল আমাদের ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করে বলেন- ঘরে আগুন লেগে ইয়াসমিন আপা পুড়ে মারা গেছে। সেদিন আমরা ইয়াসমিন আপার লাশ দেখে সন্দেহ করি। পরবর্তীতে বরুড়া থানায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ করি।

ইয়াসমিন আক্তারের মামা মোস্তফা মিয়াজী বলেন, আমরা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তারা বলেছে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলেই তদন্ত শুরু হবে।

বরুড়া থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, আমরা গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারব।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ ভোরে বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় বরুড়া উপজেলার ডেউয়াতলী গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে আগুনে পুড়ে মারা যান নববধূ ইয়াসমিন আক্তার।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: