ভারত থেকে ফিরে কুমিল্লায় যারা কোয়ারেন্টিনে আছেন, তাদের হঠকারী আবদারের কারণে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাগণ। কোয়ারেন্টিনে থাকা লোকজন গভীর রাতে কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে কল করে টয়লেটে হাইকমোড, ঘরে এসি, নাস্তা, পানি, টিস্যু দাবি করছেন।

অনেকে আবার ঢাকায় সোনারগাঁসহ ফাইভস্টার হোটেলে স্থানান্তর, এমনকি টাকাও চাইছেন। প্রতিদিন এমন অর্ধশতাধিক ফোন রিসিভ করতে হয় কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ও ডেপুটি সিভিল সার্জনকে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, গত পরশু সর্বোচ্চ ৯৬টি ফোন তিনি রিসিভ করেছেন। কোয়ারেন্টিনে থাকা লোকজন গভীর রাতে কল করে এসব অযৌক্তিক দাবি করছেন।

বুধবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনে এসব কথা বলেন ডা. মো. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, এসব অন্যায় আবদারে আমরা এখন ত্রাহি অবস্থায় পড়েছি। রাত দুইটা, তিনটা- নিশিরাতে তারা ফোন করে ঘুম ভাঙায়। তাদের ফোন সামলাতে গিয়ে আমাদের নির্ধারিত কাজেরও প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটছে।

জানা গেছে, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরা এসব ভারত ফেরতদের অধিকাংশকেই কুমিল্লায় নিয়ে আসতে হচ্ছে। জেলার আবাসিক হোটেলের স্বল্পতার কারণে তাদের জন্য কুমিল্লায় নির্ধারিত ৯টি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আজ বুধবার পর্যন্ত কুমিল্লায় ২৯৪ জন ভারত ফেরত কোয়ারেন্টিনে আছেন।

সভায় ডা. শাহাতাদ হোসেন আরো বলেন, গভীর রাতে তারা এমন কিছু আবদার করে বসেন যেসব আবদারে আমরা বিব্রত হয়ে উঠি। এসব আবদার না করার জন্য বলা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। অনেকে আবার কোয়ারেন্টিন থেকে বেরিয়ে যেতে চায়। তারা মনে করেন, তাদেরকে আমরা অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছি। আসলে দেশের জনগণ ও তাদের নিজেদের পরিবারের স্বার্থে যে তাদের কোয়ারেন্টিন প্রয়োজন এটা তারা মানতেই রাজি না। অনেকের বাজে মন্তব্যও শুনতে হচ্ছে আমাদের।

সভায় আরো বক্তব্য দেন সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফিরোজ আল মামুন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: