কুমিল্লার তিতাসে শামসুল হুদা নামে এক পল্লী চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ৩৯ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজির একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় চলছে।

রোববার (০৮ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে মজিদপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের শান্তির বাজারে এ ঘটনা ঘটে। রাতে সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে নিজের জীবন রক্ষা ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন ওই পল্লী চিকিৎসক।

অভিযুক্তের নাম সাগর। তিনি উপজেলার শাহপুর গ্রামের মৃত হাবুল মিয়ার ছেলে ও মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের চাচাতো ভাই। সাগরের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অস্ত্রসহ কমপক্ষে ৩০টি মামলা রয়েছে।

পল্লী চিকিৎসক শামসুল হুদা জানান, শনিবার (০৭ আগস্ট) রাতে আমার বাসায় একদল ডাকাত হামলা করে। কিন্তু প্রতিবেশীরা টের পেলে তারা পালিয়ে যায়। রোববার বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া সরকারসহ গণ্যমান্য বক্তিদের জানানো হয়। বিকেল ৪টায় সাগর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার চেম্বারে ঢুকে প্রথমে আমাকে হুমকি দেয়। পরে পিস্তল বের করে আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

ভয়ে আমি নগদ ও বিকাশে ৩৯ হাজার টাকা দেই। সে টাকা নিয়ে আরও দুই লাখ টাকার জন্য চাপ দিয়ে যায়। না দিলে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। সে আগেও আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলাম। সকলের সহযোগিতায় এখন নিরাপদে আছি।

তিতাস উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, চাঁদাবাজির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ এসব অস্ত্রধারী ব্যক্তি ও তাদের গডফাদারদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তিতাস থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল জানান, ঘটনার পর থেকে সন্ত্রাসী সাগর পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে আমাদের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: