কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে প্রেমিকের পাঁচ বন্ধুসহ স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসদরের নাঙ্গলকোট-মাহিনী সড়কের তুলাপুকুরিয়া এলাকায় একটি ঘরে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। মক্রবপুর গ্রামের রাসেল ও জোড়পুকুরিয়া গ্রামের শিবলুকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বুধবার বিকালে কুমিল্লার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দিনের আদালতে দুই আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

ধর্ষণে অভিযুক্তরা হল, উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের মন্তলী গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে সাইমুন (২০), একই ইউনিয়নের শ্যামিরখিল গ্রামের মৎস্য চাষী আব্দুল মান্নানের ছেলে ফয়সাল (২১), মৌকারা ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের রাসেল (২০), পৌরসভার মান্দ্রা গ্রামের রুবেল (২৩), জোড়পুকুরিয়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে শিবলু (২২) ও মক্রপুর গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে রাসেল (১৯)।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের শ্যামির খিল গ্রামের মৎস চাষী আব্দুল মান্নানের ছেলে ফয়সালের সাথে ধর্ষিতা কিশোরীর ছয় মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। এরই মাঝে কিশোরীর বড় বোন জানতে পেরে ওই কিশোরীকে শাসন করার চেষ্টা করে। পরে বোনের সাথে বাকবিতণ্ডা করে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে প্রেমিক ফয়সালের সাথে গত বৃহস্পতিবার ফয়সালের চাচাত বোন মুক্তার ঢাকার বাসায় গিয়ে অবস্থান করে। ফয়সাল ওই কিশোরীকে ঢাকায় রেখে চলে আসে। পরে গত সোমবার মুক্তা ঢাকার বাসা থেকে ফয়সালের সাথে ফোনে কথা বলে বাসে বিকেলে জেলার চৌদ্দগ্রাম বাজারে আসে। চৌদ্দগ্রাম থেকে ফয়সালের বন্ধু মান্দ্রার রুবেল ও তেতৈয়ার রাসেল কিশোরীকে নিয়ে স্থানীয় বাঙ্গড্ডা বাজারের থ্রি-স্টার রেস্টুরেন্টে আসে। সেখানে মক্রবপুরের রাসেল, জোড়পুকুরিয়ার শিবলু, মন্তলীর সাইমুন ও ফয়সাল একত্রিত হয়ে নাঙ্গলকোটের তুলাপুকুরিয়া বিল্লালের মালিকানাধীন দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করে।

বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গেলে চার ধর্ষক পালিয়ে যায়। কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে ধর্ষিতা কিশোরী বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় মামলা দায়ের করেছে।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর বলেন, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: