দুই মাস আগে সংসার জীবনে পা রেখেছিলেন সাদ্দাম হোসেন। এখনো স্ত্রী কিংবা তার হাতে থাকা বিয়ের মেহেদির রঙ মুছে যায়নি। এরমধ্যেই ট্রেনের ধাক্কায় থেমে যায় সাদ্দামের জীবন। বিয়ের কয়েকদিনের মাথায় স্বামীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় নববধূ। আর পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার।

রোববার রাতে ফেনীর ফতেপুর রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় তিনজন নিহত হন। সেই তিনজনের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন একজন। এ ঘটনায় ১৫ জন আহত হন।

নিহত সাদ্দাম কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজীর কৃঞ্চপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। রোববার রাত ১১টায় সাদ্দামের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এখনো তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

নিহতের চাচাতো বোন তাসলিমা আক্তার বলেন, চট্টগ্রাম প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি করতেন সাদ্দাম। তিনি বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার জন্য নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে চট্টগ্রামগামী নাইট কোচে ওঠেন। ভোর বেলায় তাকে বহন করা বাসের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।

তিনি আরো জানান, অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতির সাদ্দাম ছিলেন তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড়। অভাবের সংসারে অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে মাস্টার্স শেষ করে চট্টগ্রামে প্রগতিতে চাকরি নেন তিনি। তার বাবা তাজুল ইসলাম সোয়াগাজীতে একটি ফিলিং স্টেশনে চাকরি করেন।

সাদ্দামের বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, গত ১৪ আগস্ট সাদ্দামের বিয়ে হয়। তার তার বিয়ের বয়স দুই মাস পার হয়নি। স্বামীকে হারিয়ে তার স্ত্রী উর্মী পাগলপ্রায়। উপার্জনক্ষম বড় সন্তানকে হারিয়ে পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: