নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লায় ২০হাজার গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ অবৈধ বলে জানায় বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লি.। প্রায় তিন শতাধিক কিলোমিটার অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে এসব গ্রাহক গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার করছেন। বিজিএসএল কোম্পানী সম্প্রতি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান পরিচালনা করছে। কতৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে সমালোচনা চলছে সর্বত্র। এসব সংযোগ রাতে নয় দিনেই দেয়া হয়েছে এবং এ কাজে বিজিএসএল কতৃপক্ষকে দায়ী করে ফেসবুকে মন্তব্য করেন স্থানীয় একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদক। তিনি লিখেন, কর্মকর্তা-ঠিকাদার, দালাল চক্র ও রাজনৈতিক নেতারা হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর এখন চলছে বাখরাবাদ গ্যাসের অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদের অভিযান। বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের নিযুক্ত ঠিকাদার-দালাল-কর্মকর্তা মিলে জেলার ১৬ উপজেলায় গত ২/৩ বছরে প্রায় ৩শ’ কিলোমিটারেরও অধিক গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়। সংযোগ পেতে এ জন্য আগে গ্রাহক থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভাগভাটোয়ারা করে নেয় ওই চক্রটি। অনেক গ্রাহকের নামে ব্যাংকে ডিমান্ড নোটের টাকাও জমা দেয়া হয়। এসব দীর্ঘ লাইন স্থাপন করা হয়েছে কখনো দিনে, কখনো রাতে। এ জন্য বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের কোন বিধি নিষেধ ছিল না। কিন্তু যেসব লাইন আগে বৈধ ছিল, এখন তা অবৈধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও দালাল চক্রটি প্রতি গ্রাহক থেকে প্রতি চুলায় ৩০-৫০ হাজার টাকা হারে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে হাজার কোটি কোটি টাকা। এতে এখন পথে বসেছে প্রতারিত গ্রাহকরা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া চৌদ্দগ্রাম, চান্দিনা ও দেবিদ্বারে লাইন উচ্ছেদের সময় অনেক গ্রাহক বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের সরবরাহকৃত বিভিন্ন কাগজপত্র, বই কেউবা টাকা জমা রশিদও দেখিয়েছেন। কিন্তু সবই এখন অবৈধ। কুমিল্লার প্রাকৃতিক এ গ্যাস সম্পদ রক্ষায় ‘অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। হাজার হাজার প্রতারিত গ্রাহক এখন ঠিকাদার, দালাল চক্র ও রাজনৈতিক নেতা থেকে অর্থ ফেরৎ পাচ্ছে না, পাবেও না। তাই সংশ্লিস্ট এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারী বাখরাবাদের নিযুক্ত ঠিকাদার ও নেপথ্যে থাকা কর্মকর্তাদের চিহিৃত করে তাদের আইনের আওতায় আনা ও গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের দাবি ভোক্তভোগী ও প্রতারিত গ্রাহকদের। সোমবার জেলার চৌদ্দগ্রামে ৫০কিলোমিটার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর বিজিএসএল কোম্পানীর ডিজিএম (ভিজিলেন্স) প্রকৌশলী মোঃ রবিউল হক জানান, কুমিল্লায় তিন শতাধিক কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস লাইন রয়েছে, যার গ্রাহক প্রায় ২০হাজার। এতে সরকারের প্রতিমাসে ১০ কোটি টাকার গ্যাস চুরি হচ্ছিল। শীত আসলেই নগরীর অন্তত ১০টি এলাকায় দিনের বেলা গ্যাসের চাপ থাকে না। ফলে ভোর রাতে উঠেই তাদের রান্নবান্না করতে হয়। এতে দূর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: