কুমিল্লা দেবীদ্বারে নামাজ পড়তে বলায় কিশোরকে হত্যা!

কুমিল্লার দেবিদ্বার ‘নামাজ পড়তে বলায়’ এক কিশোরকে মারধরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আজিজুল হক হৃদয় (১৪) উপজেলার মুগসাইর গ্রামের অটোচালক রিপন মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ জুন) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম পোমকাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলীকে ‘নামাজ পড়তে আসো, একদিন তো মরতে হবে। তোমরা নামাজ না পড়ে গাঁজা নিয়ে ব্যস্ত থাকো’ বলায় রেগে যান ইদ্রিস। এক পর্যায়ে ইদ্রিস ও তার সাথে থাকা বন্ধুরা মিলে হৃদয়কে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে৷ এতে হৃদয়ের বুকে ও শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আহত অবস্থায় হৃদয়কে স্থানীয়রা বাড়ি পৌঁছে দেয়।

বুধবার মারধরের শিকার আজিজুল হক হৃদয় পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে মারা যায়। অভিযুক্ত ইদ্রিস মাদক সেবন ও মাদক কারবারের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

নিহতের চাচা ইসমাইল জানান, নিহত হৃদয় বুধবার যোহরের নামাজের সময় পার্শ্ববর্তী পশ্চিম পোমকাড়া গ্রামের আব্দুল মোনাফের ছেলে ইদ্রিসকে (৩৮) দেখা পেয়ে নামাজ পড়তে দাওয়াত দেয়। এ সময় ইদ্রিস ক্ষিপ্ত হয়। হৃদয় ইদ্রিসকে লক্ষ্যে করে হাসিমুখে নামাজের কথা বলে। এরপর উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ সময় ইদ্রিস একটি আঙুলে আঘাত পায়। এরপর ইদ্রিসের সহযোগী একই এলাকার দেবেন্দ্রনাথ দাসের ছেলে কৃষ্ণ কমল দাসসহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে হৃদয়কে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং পেটের মধ্যে লাথি মারে।

বুধবার পেটে লাথির মারার পর থেকে হৃদয় সবসময় বমি করতো। একসময় পেটে তীব্র ব্যথা ও বমি শুরু হলে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

হৃদয়ের মা রিনা বেগম বলেন, নামাজ পড়তে বলায় ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। মারার পরে আবার বাড়িতে এসে (মারধরের অভিযুক্তরা) আমাকে সাবধান করে দিয়ে বলেছে, আমি যেন আমার ছেলেকে শাসন করি। আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ ধর শুক্রবার সকালে জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

     আরো পড়ুন....

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরাঃ