কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ‘বদমেজাজি’ হিসেবে পরিচিত। কারও সঙ্গে বিরোধ বা কারও ওপর ক্ষিপ্ত হলেই রামদা হাতে নিয়ে তার দিকে তেড়ে যেতেন তিনি। তার এমন ঘটনার শিকার স্থানীয় একজন ইমামও। এ কারণে এলাকার মানুষের কাছে তিনি এক মূর্তিমান ত্রাস। গত রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিনে নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের চকবাজার, কাশারীপট্টি এলাকায় ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রোকন উদ্দিনকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সাইফুল। শনিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাকে। শুক্রবার বিকেলে চকবাজার এলাকার ওই ঘটনায় জলিলসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন রোকন।

কিছু হলেই রামদা নিয়ে ছোটেন সাইফুল- স্থানীয়দের দেওয়া এমন তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে শুক্রবারের ওই ঘটনার পর। ওই দিন বিকেলে রোকনকে গাড়িচাপা দেওয়ার পর সাইফুল নগরীর চকবাজারের তেলিকোনা চৌমুহনী এলাকায় তাদের পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দুই হাতে রামদা নিয়ে নাচানাচি করেন। পরে তাকে আটক করে পুলিশ। আটকের আগে রামদা হাতে পুলিশের সঙ্গেও ধস্তাধ্বস্তিও হয় তার। এ দুটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে চকবাজার বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোকনের পক্ষের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন সাইফুল। রোকন সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী। তাদের কাছে সুবিধা করতে না পেরে ৫ মার্চ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আনজুম সুলতানা সীমার হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন সাইফুল।

সরেজমিনে চকবাজার বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে কথা হয় রাজন, দুলাল, মনিরসহ বেশ কয়েকজন পরিবহন শ্রমিকের সঙ্গে। তারা জানান, এই বাসস্ট্যান্ড থেকে কুমিল্লা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাইফুল। কয়েক মাস আগে লোকসানের কারণে ওই পরিবহন বন্ধ রাখা হয়। চলতি মাসের শুরুতে রোকনদের পক্ষের আওয়ামী লীগের লোকজন সাইফুলকে বাদ দিয়ে বাস সার্ভিসটি আবারও উদ্বোধন করেন। তার পর থেকেই বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে। এক পর্যায়ে সাইফুল তার পক্ষের বাস মালিকদের নিয়ে রিলাক্স নামে একটি বাস সার্ভিস চালু করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাসস্ট্যান্ড পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত তিন ব্যক্তি জানান, এসব ঘটনার পর কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর কাছে গিয়ে সহযোগিতা চান সাইফুল। তা না পেয়ে তিনি যোগ দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপে। এরই মধ্যে শুক্রবার বিকেলে রোকনকে চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন সাইফুল। এ সময় কোমর থেকে পিস্তল বের করে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালান তিনি।

সাইফুলের সঙ্গে তার সখ্যের বিষয়ে মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, সাইফুল যুবদল করত। তবে কোনো পদে ছিল না। আমার কর্মী হলেও তার অন্যায় কখনোই প্রশ্রয় দেইনি। আমার কাছে প্রশ্রয় না পেয়েই সে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। আমার মনে হয় তার মানসিক সমস্যা আছে। সারাদিন গাড়িতে ঘুরে বেড়ায়, রাতেও ঘুমায় না। কিছু হলেই রামদা নিয়ে মানুষকে তাড়া করে। এক মসজিদের ইমামের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে সে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের শুনানি এখনও হয়নি। তার নিয়ন্ত্রণে অবৈধ অস্ত্র আছে বলে তথ্য পেয়েছি।

সূত্রঃ সমকাল

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: