ডেইলিকুমিল্লানিউজ ডেস্কঃ কুমিল্লায় ব্যবসায়ী জাকির সরকারকে আটকের পর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবু তাহেরসহ একদল সদস্যের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে যান ওই ব্যবসায়ী। তবে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির মুখে পালিয়ে এসে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন ওই ব্যবসায়ী।
এ সম্পর্কে অভিযুক্ত এসআই আবু তাহের সমকালকে বলেন, জাকির হোসেন একজন অপরাধী। তাই তাকে আটকের পর জিডি করে ছেড়ে দিয়েছি। তবে ব্যবসায়ী তাহেরের বড় ভাই আলম সরকার বলেন, ঘটনাটি সাংবাদিক, এলাকাবাসী, পুলিশসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জানাজানি হওয়ায় এসআই তাহের হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত দিয়ে ক্ষমা চেয়ে মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন।
অভিযুক্ত এসআই তাহেরের আটকবাণিজ্যে অতিষ্ঠ এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক এবং মালিকরা তার বিরুদ্ধে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও মানবন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির একাধিক নেতা।
যেভাবে টাকা নেওয়া হলো : কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ এলাকার ভিংলাবাড়ী গ্রামের তেল ব্যবসায়ী জাকির হোসেন গত ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অটোরিকশায় কোটি চৌমুহনী যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের শালঘর এলাকায় মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবু তাহেরসহ একদল পুলিশ তখন অটোরিকশা আটক করে তল্লাশি করছিলেন। এসআই তাহের ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে আটক করে হাইওয়ে পুলিশের পিকআপভ্যানে তোলেন। পরে তাকে নিয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পর কালামুড়া ব্রিজের ওপর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। ভয় দেখানো হয়, চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে ক্রসফায়ারে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী জাকির তার পরিবারকে যত বেশি সম্ভব টাকা জোগাড় করে আনতে বলেন। ব্যবসায়ীর ভাই আলম সরকারসহ পরিবারের লোকজন গিয়ে নগদ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাকির সরকার বলেন, এ নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে দেবিদ্বার থানার এসআই মোরশেদসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বেকায়দায় ফেলানোর হুমকি দেন। তিনি এ ঘটনার বিচার চাইলেও প্রাণের ভয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে পারছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ : স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত এসআই আবু তাহের এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জেলার মুরাদনগর, দেবিদ্বার, কসবা এবং হাইওয়ে পুলিশে কর্মরত থেকে এলাকায় বড় ধরনের অপরাধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এলাকার বড় বড় অপরাধী চক্র ও বিএনপি-জামায়াতের নাশকতাকারীদের সঙ্গেও রয়েছে তার গোপন যোগসাজশ। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাদেরও সঙ্গেও রয়েছে তার সুসম্পর্ক। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে লক্ষ্ণীপুরের বাসিন্দা আবু তাহের মুরাদনগর থানায় টানা চার বছর কাজ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন তিনি সরকারদলীয় ক্যাডারের মতো সাধারণ ব্যবসায়ী ও নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করতেন।
পুলিশের ভাষ্য : এ বিষয়ে মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শাহজাহান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিওনের পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ বলেন, এসব ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এসআই আবু তাহেরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্রঃ সমকাল

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: