মারুফ আহমেদঃ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম ফিলাপের বোর্ডনির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় তাদেরকে কৌশলে ফেল করানো হয়েছে টেষ্ট পরীক্ষায়। এতে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না পেয়ে অনেক পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা যায়,জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থান। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের তার কোচিং সেন্টারে পড়তে চাপ প্রয়োগ করতো। আর্থিক সংগতি না থাকায় অনেকের পক্ষে সেটা সম্ভব না হওয়ায় তিনি আগামী ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী অনেক শিক্ষার্থীকে কৌশলে টেষ্ট পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেন। স্থানীয় একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্র ও অভিভাবকরা জানান,স্কুলটিতে এবারে টেষ্ট পরীক্ষায় ২১০ জন অংশ নেয়। সব বিষয়ে পাশ করেছে মাত্র ৯৭ জন। সরকারী এমপিও ভূক্তস্কুলটিতে অর্ধেকের বেশী পরীক্ষার্থী ফেল করায় অনেকের প্রশ্ন তাহলে শিক্ষকরা কি করেছেন? সুত্র আরো জানায়,স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিজে কোচিং সেন্টার চালু করে শিক্ষার্থীদের তার কোচিং সেন্টারে পড়তে বাধ্য করতে নানা রকম ভয়ভীতি দেখায়। তিনি এসময় শিক্ষার্থীদের ভয় দেখান তার কোচিং সেন্টারে না পড়লে পাশ করতে দেওয়া হবেনা। এদিকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বোর্ড ফি’র অতিরিক্ত টাকাও নিচ্ছেন পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে। বোর্ড যেখানে সর্বোচ্চ ১৭’শ টাকা নির্ধারণ করেছেন,সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ সর্ব নিম্ন ২২’শ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা আদায় করছেন।

বিষয়টি জানতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। এদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক টেস্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের কাছে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ১ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবী করছেন। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের বলছেন,তার কাছে প্রাইভেট পড়তে। বিষয়টির সত্যতা জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: