পানিতে ভাসছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ

দুই দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রতিবছরের জন্য এবারও এমম চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনের নিচতলা, শ্রেণিকক্ষ ও প্রশাসনিক কক্ষগুলোতে হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী পানির কারণে ক্লাসে উপস্থিত হতে পারেননি, আবার যারা এসেছেন তারাও দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে শহরের ধর্মপুর এলাকায় অবস্থিত কলেজের ডিগ্রি সেকশনের কলাভবন ও আশপাশের ভবন ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পানিতে থৈ থৈ করছে পুরো ভিক্টোরিয়া কলেজ ক্যাম্পাস। কলাভবন, বিজ্ঞান অনুষদ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ভবনসহ বেশ কয়েকটি ভবনের নিচতলা পানিতে তলিয়ে আছে। অনেক শ্রেণিকক্ষ সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
কলাভবনের নিচতলায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি কক্ষে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। বিজ্ঞান অনুষদের সবগুলো শ্রেণিকক্ষ এবং বিভাগীয় প্রধানদের কক্ষেও একই অবস্থা। চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এছাড়া রসায়ন ভবন, মিলেনিয়াম ভবন ও বিজ্ঞান ভবন-২ এর সামনের রাস্তা, ২ নং গেট থেকে কলাভবন রাস্তা ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভবনের সামনে থেকে অর্থনীতি ভবন পর্যন্ত পুরো রাস্তা জুড়েই প্রায় হাঁটু সমান পানি।
কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে অংশে জাল পেতে মাছ ধরেছেন স্থানীয়রা।কলেজ শিক্ষার্থী এম হাসান অভিযোগ করে বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রাস্তাঘাট ও আঙিনা পানিতে তলিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতি প্রায়ই ঘটে, কিন্তু এর স্থায়ী কোনো সমাধান নেওয়া হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. হোসাইন আহমেদ বলেন, ‘আগামীকাল অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা। হাটু সমান পানিতে বসে পরীক্ষা দিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছি। এভাবে তো একটি সরকারি কলেজের কার্যক্রম চলতে পারে না।
এই পানি শুধু বৃষ্টির পানি হলে মানা যেত। আশপাশের ড্রেনের নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি কক্ষে ঢুকছে। এতে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বারবার বলার পরও তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
বাংলা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই চিত্র দেখা যায়। কলেজের পুরানো ড্রেনেজব্যবস্থা ও অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্যাম্পাসের চার পাশেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধাতার মূল কারণ।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে হাঁটু সমান পানি, এই অবস্থায় কিভাবে পরীক্ষা দেব, তা বুঝতে পারছি না। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে আগামীকাল যে পরীক্ষা রয়েছে এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সামনের সড়কের পানির ঢেউ দেখলে মনে হয় কক্সকবাজার এসেছি। পুরা কক্সবাজারের সাগরের একটা ফিল পাওয়া যায় এখানে আসলে। এ অবস্থা কমপক্ষে ৪/৫ দিন থাকবে। এছাড়াও ক্যাম্পাসের ভেতরে পানি জমে থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। ময়লা পানি জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, মানুষের মল ভেসে উঠেছে, পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা। পানি কমার পরও ভোগান্তি রয়েছে, স্যাতস্যাতে পরিবেশ শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে হয়।
বিষয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজর অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাসার ভূঁঞা বলেন, বাহিরের পানি ক্যাম্পাসে আসে। আমরা প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ড্রেনেজ নির্মাণের কাল অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা রয়েছে, তবে পরীক্ষার্থীদের অসুবিধা হবে না, আমরা যাতে পরীক্ষার্থীদের অসুবিধা না হয় সে রকম ব্যবস্থা করেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর ভোগান্তি কমাতে আমরা কিছুটা কাজ করিয়েছি। উন্নয়নের জন্য ৪০ লক্ষ টাকার একটি রাস্তা ও ড্রেনেজ করে দেওয়ার কথা এসবগুলো টেন্ডার হয়ে গেছে, মন্ত্রী আসলে আমি জানাবো, কারা টেন্ডার এসব পায়, এরা কাজ করে না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, ১৮৯৯ সালে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় রায় বাহাদুর আনন্দচন্দ্র রায় রানী ভিক্টোরিয়ার নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ভবন পর্যাপ্ত না থাকায় ১৯৬৪ সালে নগরীর ধর্মপুরে ডিগ্রি শাখা স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে কলেজটিতে ২০টি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে।
