কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোরপাই-আবিদপুর সড়কটির প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশজুড়ে অসংখ্য খানা-খন্দক সৃষ্টি হওয়া প্রতিদিন যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে হাজার হাজার মানুষসহ কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করণে চরম অসুবিধাছাড়াও বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে প্রতিদিন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের একটি সড়ক রয়েছে কোরপাই-আবিদপুর এলাকায়। প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির কোরপাই পোষ্ট অফিস ,কাকিয়ারচর,মনঘাটা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে উল্লেখিত গ্রামগুলো ছাড়াও পাশ্ববর্তী লোয়ারচর, আবিদপুর, মিথলমা, ভারেল্লা, দেবিদ্বার উপজেলার ব্রাহ্মনখাড়া ,প্রেমূ , ছোটনা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

এছাড়াও কৃষি অধ্যূষিত এসব গ্রামের শত শত কৃষক তাদের উৎপাদিত তরিতরকারী এই সড়ক পথে ট্রাক্টর, সিএনজি অটোরিক্সা, ইজিবাইক, ভ্যানযোগে প্রতিদিন দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারী কাঁচাবাজার নিমসারে এই সড়ক পথেই নিয়ে আসে। সড়কটি খানাখন্দকে ভরা থাকায় কৃষকদের কাছ থেকে যানবাহন চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। উল্লেখ্য এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ হাজারেরও বেশী লোকজন চলাচল করছে। এর মাঝে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবি,ব্যবসায়ী,কর্মজীবি শ্রমিক রয়েছে । মিথলমা গ্রামের কৃষক জহিরুল,সামাদ,রশিদ প্রমূখ জানান, রাস্তাটি ভাঙ্গাচোরা হওয়ায় উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করণে দুর্ভোগের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া গুণতে হয়।

আবার অনেক সময় সড়কটিতে বর্ষায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণে মালামাল পরিবহনে বাধাগ্রস্থ হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিকল্প সড়ক পথে পণ্য নিয়ে আসতে হয় বাজারে বিক্রির জন্য। এতে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হতে হচ্ছে। সড়কটিতে নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে নিয়েজিত সিএনজি অটোরিক্সা চালক কাকিয়ারচর এলাকার জলিল ,মিথলমা গ্রামের নাসিরসহ একাধিক বিভিন্ন শ্রেনীর যানবাহন চালক জানান, সড়কটি বহুদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ফলে যাত্রীদের পাশাপাশি আমাদেরও দুর্ভোগ হচ্ছে। এছাড়াও খানাখন্দকে পড়ে প্রায়ই ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।

এঅবস্থায় তারা দ্রুত সড়কটির সংস্কারের দাবী জানায়। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাকিয়ারচর গ্রামের একাধিক লোক জানান, সড়কটির এই গ্রামের একটি অংশের দু’পাশে পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না রেখে একাধিক বাড়ি-ঘর নির্মানের কারণে অল্প বৃষ্টিতেই সড়কটিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসময় যানবাহনের যাত্রীদের পাশাপাশি পথচারীদেরও দুর্ভোগ চরমে উঠে।

বুড়িচং উপজেলা আ’লীগ নেতা মোঃ সাহেব আলী সংস্কারহীন সড়কটির ব্যাপারে জানান, আমি এমপি সাহেবকে বিষয়টি অবহিত করেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্থ করেছেন সড়কটির সংস্কারের। এদিকে বুড়িচং উপজেলা প্রকৌশলী আলিফ আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে অচিরেই এটা সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: