ফাইল ফটো

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বুড়িচংয়ের পীরযাত্রাপুরে মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় ২৩দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি হামলাকারী আসামীরা উল্টো স্থানীয় সংখ্যালঘু সনাতনধর্মীদের হুমকি ও ভয় দেখিয়ে মামলা তুলে নেয়ার চাপ দিচ্ছে প্রভাবশালীরা।

উল্লেখ্য গত ২২অক্টোবর মোবাইল ফোনে ভিডিও দৃশ্য ধারণকে কেন্দ্র করে গোবিন্দপুরের ১০/১৫ জন যুবক কালিমন্দিরে হামলা করে ৩টি প্রতিমা ভাংচুর করে। এ ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি হরেন্দ্র চন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পীরযাত্রাপুর কালি মন্দির কমিটির সভাপতি নারায়ন চন্দ্র বর্মণ বলেন, এই হামলার পর থেকে আমরা আতঙ্কে আছি। ভয়ে চলাফেরা করি। মেয়েরা একা চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছে। আসামীরা ঘটনার পর গা ঢাকা দিলেও এখন প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে।

তিনি বলেন, দূর্বৃত্তরা লক্ষ্মী প্রতিমা, স্বরস্বতী প্রতিমা ও মহাদেবের হাত ভেঙ্গে ফেলে।

গ্রামের যুবক নিরঞ্জণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, কিছু প্রভাবশালী মহল আসামীদের বাঁচাতে চেষ্টা করছেন। তারা মামলা তুলে নেয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। আমরা সংখ্যালঘুরা কারো সাথে বিবাদে যেতে চাই না। কিন্তু দূর্বৃত্তরা আমাদের কোনঠাসা করে রাখতে চাইছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পীরযাত্রাপুর গ্রামের সংখ্যালঘু নারী বলেন, ২২ অক্টোবরের ঘটনার পর প্রশাসনের বহু কর্মকর্তা কালি মন্দির পরিদর্শণ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত নামোল্লেখ থাকা ১০জন আসামীর কেউই গ্রেপ্তার হয়নি। উল্টো ঘটনার মিমাংসার জন্য মামলা তুলে নিতে ভয় দেখাচ্ছে হামলাকারীরা। কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক এ ঘটনার ইন্দন যুগিয়েছেন এবং তাদের রক্ষা করতে তৎপর রয়েছেন।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি মনোজ কুমার দে বলেন, ঘটনার পর হামলাকারীরা গা ঢাকা দেয়। হামলাকারী সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে সংখ্যালঘুদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পুলিশ সন্ত্রাসীদের শিগগিরই গ্রেপ্তার করবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বুড়িচং উপজেলা শাখার সভাপতি বিষ্ণু কুমার ভট্টাচার্য বলেন, আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। কিন্তু কতিপয় বখাটে সেই পরিবেশটা বিনষ্ট করছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেন এখন পর্যন্ত আসামীরা গ্রেপ্তার হলেন না তা উদ্বেগজনক।

মামলার বাদী হরেন্দ্র চন্দ্র বর্মণ জানান, গত ২০অক্টোবর রাতে পীরযাত্রাপুর গ্রামের মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন কালীপূজা পরবর্তী আনন্দ উতসবের আয়োজন করলে রাত ১টায় পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে রবিউলের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন যুবক পূজামন্ডপে অশালীন আচরণ করে এবং মোবাইলে মেয়েদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরে স্থানীয় অপু চন্দ্র বর্মণ তাদের থামাতে চেষ্টা করলে তার সাথে মারমুখি আচরণ করে। পরে স্থানীয় ইউপি মেম্বার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রবিউল ও তার সাথে থাকা তরুনদের শান্ত করে গ্রামে পাঠিয়ে দেয়। পরদিন অপু চন্দ্র বর্মন বাজারে গেলে তাকে মারধর করে রবিউল ও তার সহযোগীরা। এসময় রবিউল ও তার সহযোগিরা পীরযাত্রাপুর কালিমন্দিরে হামলা করে। হামলাকারীরা ৩টি প্রতিমা ভাংচুর করে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপুর গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে রবিউল(২২), নজরুল ইসলামের ছেলে সফিউল্লাহ (২২), আব্বাস আলীর ছেলে আরিফ(২১), ছলিম খাঁ এর ছেলে সাহেদ(১৮), ফয়েজ আলীর ছেলে সুমন(১৮), খোরশেদ আলমের ছেলে এবাদুল(২৩), মো: হাবিবের ছেলে মালেক (২৮), রকিবুল (২৫), হাসান মিয়ার ছেলে হানিফ(১৮), পূর্ণমতি গ্রামের হাবিব মিয়ার ছেলে রিয়াজ (২০) সহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮জন লোক সংঘবদ্ধ হয়ে কালিমন্দিরে হামলা করে প্রতিমা ভাংচুর করে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ইউপি নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামীলীগ নেতা বিল্লাল হোসেনের ছত্রছায়ায় আসামীরা এর আগেও একটি খেলাকে কেন্দ্র করে গোবিন্দপুর গ্রামের কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালায়। একই অভিযুক্তরা মন্দিরে হামলা চালিয়েছিল। আসামীদের রক্ষা করতে বিল্লাল সহ প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি বেশ তৎপর বলে জানা যায়।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: