মুরাদনগর প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় অপহরনকারী দলের হামলায় প্রাণ গেল অপহৃত শাহনাজের চাচা ইয়াসিন মুন্সী’র(৫৫)। এ ঘটনায় অপহরকারী দলের দুই সদস্যকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। রাতে ইয়াছিনের স্ত্রী জান্নাত আক্তার বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় দুই জনের নামে একটি হত্যা মামলা করেন।

নিহত ইয়াসিন মুন্সী দেবিদ্বার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মৃত লতিফ মুন্সীর ছেলে।

অপহরন দলের আটককৃত সদস্যরা হলো, দেবিদ্বার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের হাসান খানের ছেলে ও হত্যাকারী মনির খান(৩৩) ও একই গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে ও অপহরন চক্রের মূল সদস্য কাউছার আলম(৪০)।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টায় উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের নোয়াখলা গ্রামে সফিকুল ইসলামের বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের আনিছুর রহমান মেয়ে শাহনাজ আক্তার(১৪) কে ১৮ আগস্ট অপহরন অভিযোগে পিতা আনিছুর রহমান গত গত ৪ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা আদালতে কাউছারকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের করনে। দেুবিদ্বার থানার মামলা নং-০২। একই গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে কাউছার অলম প্রধান আসামি করে ৫ জনকে আসামি করা হয়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দেবিদ্বার থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে থেকে শাহনাজকে উদ্ধার করে। শাহনাজকে উদ্ধারের পর অপহরনকারীদের কাছ থেকে নিজেদের প্রাণ বাচাতে আনিছ মিয়া পার্শবর্তী মুরাদনগর উপজেলা ধামঘর ইউনিয়নের নোয়াখলা গ্রামের তার ভগ্নিপতি সফিকুল ইসলামের বাড়ীতে আশ্রয় নেন। এমন খবর পেয়ে অপহরনকারিরা আসামী কাউছার আলমসহ ৪/৫ জন লোক নিয়ে নোয়াখলা গ্রামে যায়। এবং মামলাটি তুলে নেয়ার হুমকি দিতে থাকে এক পর্যায়ে আনিছ মিয়াকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এমন সংবাদে ভীকটিমের লোকজন সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কাউছার ও মনিরকে আটক করে দেবিদ্বার নিয়ে যেতে চাইলে মনির খান উপস্থিত ব্যাক্তিদের উপড় এলোপাথারি কিল ঘুষি মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় মনির খানের এলোপাথারি ঘুষির আঘাতে ইয়াছিন মুন্সী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ইয়াছিন মুন্সীকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। পরে পরিবারের লোক জন ইয়াছিনের লাশ গ্রামের বাড়ী দেবিদ্বারে নিয়ে যায়। দেবিদ্বার থানার এসআই রাতেই লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আসামীদের দেবিদ্বার থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার স্থল মুরাদনগর হওয়ায় সেখানে মামলা হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: