কয়েকদিন পরেই ঈদ, প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাড়তি আয়ের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করে কোরবানীর পশুর মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার কামার পল্লির লোকজন। কিন্তু এবছর সেই জায়গায় তার ভিন্ন চিত্র। এখানে নেই চিরচেনা সেই লোহার টুং টাং শব্দ। সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারনে বন্ধ রাখতে হচ্ছে কামার পল্লি। তাই যে যতটুকু পারছে ঘরোয়া ভাবে কাজ করে তৈরি করার চেষ্টা করছে কোরবানীর পশুর মাংস কাটার সরঞ্জাম।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু মুরাদনগর সদর এলাকায় নয় উপজেলার প্রায় ৩ শতাধিক দোকানীর একই অবস্থা। লকডাউনের কারনে বন্ধ রাখতে হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কবে নাগাদ দোকান খুলতে পারবে তারও ঠিক জানা নেই তাদের। তাই এক প্রকারের দিশেহারা হয়ে পরেছে এসব কর্মজীবী মানুষগুলো।

উপজেলা সদরের চন্দন কর্মকারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ঈদকে সামনে রেখে প্রায় এক মাস আগে থেকে পশুর মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। কিন্তু এবছর সরকার ঘোষিত লকডাউনের ফলে বন্ধ রাখতে হচ্ছে দোকান। তাই অবসর সময়ে ঘরে বসেই যতটুকু পারছে কাজ করার চেষ্টা করছেন তারা।

একই কথা জানান উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজারের সংকর কর্মকার, তিনি বলেন আমরা সবাই সারা বছরের ব্যবসার ঘাটতি মেটাতে এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু এ বছরের লকডাউনে আমাদের খুব ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। যদি আগামী ১৪দিনের লকডাউনের পরও আমাদের দোকান খোলতে না দেয়া হয় তবে আমরা ভিশন ক্ষতির সম্মুক্ষিন হবো।

উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন রামচন্দ্রপুর বাজারের বিমল কর্মকার বলেন, দোকান খোলতে না পারায় অর্ডার নিতে পারছি না। কয়েকদিন পরেই ঈদ, এখনই যদি সরকার আমাদের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে আমরা খুব বিপদে পরে যাবো।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিষেক দাশ বলেন, আমরা এখনো কোরবানীর পশুর হাটের বিষয়েই নিশ্চিত হতে পারিনি। অপরদিকে কামার পল্লির বিষয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত নতুন কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। সিদ্ধান্ত এলেই আমরা তাদেরকে দোকান খোলার অনুমতি দিয়ে দিবো।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: