ডেইলিকুমিল্লানিউজ ডেস্কঃ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দি উপজেলার মালীখিল এলাকায় এশিয়া ট্রান্সপোর্ট যাত্রীবাহী একটি বাস এক মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত গতিতে ঢাকার পথে অগ্রসর হতে থাকে। সংবাদ পেয়ে গাড়ি আটকের জন্য দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার জরুরী ডিউটিতে থাকা সার্জেন্ট মোঃ আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বদলাখাল এলাকায় অবস্থান নেয়। বাস চালক দূর থেকে পুলিশের উপস্থিতি দেখে চলন্ত বাস থেকে জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যান। এ যেন সিমেনার কোন দৃশ্য! এ যেন অবিশ্বাস্য চালক বিহীন বাস অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে যেন মৃত্যুর দরজায় কড়া নাড়ছে। কে, কিভাবে, কেমন করে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করবে? বাস যাত্রীরা তখন চিৎকার করে মহান আল্লাহ তালাকে স্বরণ করছেন। “রাখে আল্লাহ মারে কে”। ঠিক এই সময় সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার পুলিশ কনস্টেবল (চালক) মোঃ সাইফুল ইসলাম নিজের জীবনের ঝুকির কথা না ভেবে বাসটির দরজায় লাফিয়ে পড়েন। সফল হন তিনি। গাড়ি উঠে চালকের আসনে বসেই বাসটি থামাতে সক্ষম হন তিনি। এসময় যাত্রীরা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে দুহাত তুলে মহান আল্লাহ তালার কাছে তার জন্য দোয়া করেন। নিশ্চয় মহান আল্লাহ তালা ফেরেস্তার মত তাকে পাটিয়েছেন যাত্রীদের রর্ক্ষাথে। এ যেন ছোট পুলিশের বড় কৃর্তি। এটি কোন সিমেনার দৃশ্য ছিল না। বাস্তবে তা দেখালেন কনস্টেবল সাইফুল। অনেক যাত্রীরা বলাবলি করেন, কি করে, কি ভাবে এটা সম্ভব হলো। চলন্ত বাসে তিনি যে ভাবে ঝাপিয়ে পড়েছেন মৃত্যু খুব কাছাকাছি ছিলো। মহত কাজের জন্যই সৃষ্টি কর্তা তাকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছে। চালক যাত্রীদের মৃত্যুর দরজায় রেখে পালিয়ে গেলো আর পুলিশ জীবন রক্ষা করলো। পুনরায় মনে করিয়ে দিচ্ছে কনস্টেবল পারভেজ মিয়ার সে অদম্য অসীম সাহসকিতার কথা। কনস্টেবল পারভেজ মিয়ার বুদ্ধিমত্তা ও সাহসীকতায় একই উপজেলা গৌরীপুরে প্রায় ৪০ বাস যাত্রীর প্রাণ রক্ষা পায়। আজোও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে স্বরণ করা হয় কনেস্টবল পারভেজ মিয়ার অবদানকে। সেবাই পুলিশের ধর্ম আবারো প্রমাণ করলেন কনস্টেবল সাইফুল। সময়ের দুই সাহসী পারভেজ ও সাইফুলরা। সালাম জানাই এসব বীর বিক্রমদের। যারা মানবসেবার ব্রত নিয়ে এসেছেন এবং তা ই করে যাচ্ছেন। আল্লাহ এদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করুক। স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রথম পুলিশ ঝাপিয়ে পড়ে যেমন এ দেশ, মাটি ও মানুষকে রক্ষা করেছেন। ছিনিয়ে এনেছেন লাল সবুজের পতাকা। তেমনি পারভেজ ও সাইফুলরা দেশ ও মানুষ রক্ষার্থে যে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন তা নিঃসন্দেহে পুলিশের ভাবমূর্তি বহু উচু শিখড়ে পৌছে দিবে। পুলিশ জনগনের বন্ধু, জনসেবায় পুলিশ নিয়োজিত কথা সত্য বাস্তব। দেশ ও দশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে অসামান্য অবদান রেখে চলছেন তারা। তার এ সাহসিকতায় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা থেকে রক্ষা পেল অর্ধশতাধিক যাত্রী। পারভেজ ও সাইফুলরা সত্যিই দেশের গৌরব। তাদের মাধ্যমেই পুলিশের সেবার মান ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী। বিশ্ব দেখছে আজ মানবতা সেবায় আমাদের পুলিশ বাহিনী কতটা এগিয়ে আছেন। কেবা জীবনের এত বড় ঝুকি নেয়। তা সম্ভব কেবল মাত্র প্রিয়জন ও ভালোবাসার মানুষের জন্য। হা পুলিশ প্রমাণ করলেন প্রিয়জন ও ভালোবাসার মানুষগুলোর মতই এ দেশ ও দেশের মানুষ। কনস্টেবল পারভেজ যখন মহানায়কের মত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পচা ও গন্ধযুক্ত ময়লা ডোবার পানিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে যাত্রীদের উদ্ধার করেন। তখন হাজারো মানুষ কেবল মাত্র চারিপাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলে আর মোবাইল ভিডিও দারন করছিলেন। কিন্তু পুলিশ ছাড়া কেউ এগিয়ে আসেননি। স্যালুট পারভেজদের, স্যালুট সাইফুলদের, স্যালুট পুলিশদের।

সূত্রঃ কুমিল্লার কাগজ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: