কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি করেন মফিজুল ইসলাম। কিন্তু ২৫ বছর ধরে বেতন পান না তিনি। এ নিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে বিভিন্ন দফতরে ঘুরেও কোনো সমাধান হয়নি। এমন অবস্থায় স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাকে।

মফিজুল ইসলাম জানান, তার পৈতৃক বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা এলাকায়। ছোটবেলায় তার বাবা রাজশাহীতে চলে যান। সেখানে ১৯৯০ সালে মফিজুল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি পান।

রাজশাহীতে চার বছর ১১ মাস চাকরি করেন মফিজুল। এরপর ১৯৯৪ সালের শেষ দিকে কুমিল্লায় বদলি হওয়ার আবেদন করেন তিনি। কুমিল্লায় আসার পর চার মাস বেতন পান।

এরপর ১৯৯৫ সাল থেকে তার বেতন বন্ধ। রাজশাহী থেকে তার সার্ভিস বুক পাঠানো হয়নি বলে বেতন দেয়া হচ্ছে না বলে তাকে জানানো হয়। এজন্য কয়েকবার তিনি রাজশাহী গেলেও তাকে সেখান থেকে বলা হয় কাগজপত্র পাঠিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু পাঠানো হয়নি কাগজপত্র।

এ নিয়ে কুমিল্লার সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবুল ফজল মীরসহ অনেকেই চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এতেও কোনো কাজ হয়নি। মফিজুল তার বেতন নিয়মিত করার দাবি জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

জানা যায়, বাধ্য হয়ে অফিসের কাজের সঙ্গে বাইরে টুকটাক কাজ করে পরিবার চালাতে হয় মফিজুলকে। থাকেন নগরীতে এক আত্মীয়ের বাসায়। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয় তাকে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মফিজুল ইসলাম অনেক বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এতে তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।’

কুমিল্লার ডিসি মো. কামরুল হাসান বলেন, মফিজুল ইসলামের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো। তার সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: