কুমিল্লায় প্রকাশ্যে নারীকে জুতাপেটা, চেয়ারম্যান অভিযুক্ত

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পরকীয়ার অভিযোগ তুলে গ্রাম্য সালিশে এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মো. ফরিদ উদ্দিন মাধবপুরের ইউপি চেয়ারম্যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশে উপস্থিত লোকজনের সামনে ২৪ থেকে ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে মাটিতে বসিয়ে জুতাপেটা করছেন ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীর মাথা নিচের দিকে চেপে ধরে পেটে জুতা দিয়ে আঘাত করেন।
স্থানীয় লোকজনের তথ্যমতে, চারিপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়ার অভিযোগ তুলে সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে ওই নারী ও যুবককে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পুরুষটির শাস্তির কোনো ভিডিও প্রকাশ পায়নি। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রকাশ্যে এমন মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানোর সাহস পাননি কেউ।
অভিযোগ স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, প্রবাসী স্বামীর সংসারে থাকা অবস্থায় ওই নারী পরকীয়ায় জড়ান। সামাজিক সালিশে যে রায় হয়েছিল, তিনি সেটিই বাস্তবায়িত করেছেন।
তবে গ্রাম্য সালিশের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান আইনজীবীরা।
কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কোনোভাবেই কাউকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করতে পারেন না। নারীটি অপরাধী হলেও তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল। এই আদেশের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, বিষয়টি তারা জেনেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
