ডেস্ক রিপোর্টঃ একজন সাধারণ, সৎ, পরিশ্রমী, স্বপ্নচারী আর দৃঢ়প্রত্যয়ী মানুষ। আমরা তাকে তৈরি পোশাক শিল্পের একজন ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে চিনি। ক্রীড়াক্ষেত্রসহ সামাজিক নানা কার্যক্রমেও তিনি সফল নেতৃত্বের পরিচয় রেখেছেন। তাঁর সাধারণ জীবনযাপনের মন্ত্র,পরিশ্রমে পাওয়া অর্জনের পেছনের গল্পগুলো, আর রাজধানী ঢাকাকে নিয়ে তাঁর স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের কথা চলুন আমরা জেনে নেই – চিনে নিই আতিকুল ইসলামের ভিতরের মানুষটিকে। স্বপ্নচারী ও দৃঢ়প্রত্যায়ী এ ব্যক্তিটি নগরের মানুষগুলোকে সাথে নিয়ে গড়তে চান এক নতুন ঢাকা – পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল আর নিয়মে বাঁধা এক নতুন রাজধানী।

আসুন, আমাদের সেই কাঙ্খিত নগরপিতার কথাশুনি –

অনেক ভাই-বোনের বড় এক পরিবার, আর সেই পরিবারের আচারটাই এমন ছিল যে, আতিকুল ইসলাম বড় হয়ে উঠেছেন নিঃস্বার্থ, ত্যাগী ও বন্ধুবৎসল এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে। ১৯৬১ সালের ১ জুলাই তাঁর জন্ম।মা মাজেদা খাতুন ও বাবা পুলিশ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মরহুম মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এর ১১ সন্তানের সবার ছোট হচ্ছেন আতিকুল ইসলাম। সাংস্কৃতিমনা ও প্রগতিশীল পরিবারের শান্ত ও মিশুক এ ছেলেটি শৈশব ও কৈশোর জুড়ে ছিলেন মা-বাবা আর ভাই-বোনদের চোখের মনি। ‘স্নেহময়ী, আদর্শবান মায়ের অসীম অনুপ্রেরণা আর সৎ পুলিশ কর্মকর্তা বাবার অনুশাসনে বেড়ে ওঠা ভাই-বোনরা সকলেই নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত।সবচেয়ে বড় ভাই প্রখ্যাত প্রকৌশলী ও সফল ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম এর হাত ধরেই তরুণ বয়সে আতিকুল ইসলাম ব্যবসা অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তাঁর মেজ ভাই অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জনাব তোফাজ্জল ইসলাম, এবং আরেক ভাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মইনুল ইসলাম, যিনি দেশের বিডিআর বাহিনীর পুনর্গঠনে তাৎপর্যপূর্ন ভুমিকা রেখেছেন।

কুমিল্লার দাউদকান্দির লালপুর স্কুলে প্রাইমারি শিক্ষার পর বিএএফ শাহীন স্কুল ও কলেজ থেকে আতিকুল ইসলাম যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসিপাশ করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি স্কুল জীবনে তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ( বিএনসিসি) এর সর্বোচ্চ অবস্থানে নেতৃত্ব দেন এবং তাতে সফল হন। তরুণ বয়সেই শুরু করেন নিজের ব্যবসা। ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি তিনি স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এসময় তিনি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র পরিচালকের দায়িত্বও গ্রহন করেন।

পরিবার , বন্ধু ও চারপাশের সব মানুষের প্রতিই রয়েছে আতিকুল ইসলামের অপার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। অতি ক্ষুদ্র পেশার সাধারণ একজন মানুষকেও তিনি সম্মানের সাথে মূল্যায়ন করেন। বন্ধুভাবাপন্ন, দায়িত্ববান আর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের গুণেই ২০১৩ সালে বিজিএমইএ’র নির্বাচনে সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে তিনি সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হন।দেশ তাঁর কাছে সবার উপরে। নিজ দেশ এবং নিজ শিল্পেরপ্রতি আন্তরিক দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠা থেকেই তিনি দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন স্লোগান দিয়েছেন ‘মেড ইন বাংলাদেশ উইথ প্রাইড’।

মানবিকতা ও কোমলতায় পূর্ণ আতিকুল ইসলাম মানুষের প্রয়োজনে, মানুষের কল্যাণে সবসময়ই রয়েছেন অগ্রণী ভূমিকায়। ১৯৮৬ সালে তৈরি পোশাক খাতে নিজের ব্যবসাশুরুর প্রথম থেকেই তাঁর প্রতিষ্ঠানে নিশ্চিত করে এসেছেন শ্রমিক-বান্ধব ও আন্তরিক পরিবেশ। ২০১৩-২০১৫ সময়কালে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি থাকার সময় দেশের পোশাক কারখানাগুলো থেকে শিশুশ্রম নিরসনে আতিকুল ইসলাম অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন।

আতিকুল ইসলামের দুরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গী বিজিএমইএ’র ইমেজ আর কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়েছে নতুন উচ্চতায়। বিজিএমইএ’র উদ্যোগে তিনি ২০১৪ সাল থেকে শুরু করেন ‘ঢাকা এ্যাপারেল সামিট’ এর আয়োজন, যা দারুণভাবে প্রশংসিত হয় আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রেতা ও বিশেষজ্ঞগণের কাছে।তাঁর প্রচেষ্টায় পোশাক শ্রমিকদের চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েকটি হাসপাতাল। আতিকুল ইসলামের উদ্যোগেই পর্যায়ক্রমে সকল পোশাক কারখানায় ২ জন করে অটিস্টিক কিশোরের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে।

২০১৩ সালের এপ্রিলে বিভীষিকাময় রানা প্লাজা ধ্বংসের সেই অস্থির দিনগুলোতে বিজিএমইএ’র সভাপতি হিসেবে তাকেএক গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।সংকটপূর্ন সেই সময়ে দেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা মোকাবেলায় ছুটতে হয়েছে দেশের বাইরেও। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কারখানার কমপ্লায়েন্সএবং শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া তিনি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেন।ধর্মপ্রাণ আতিকুল ইসলাম রাজধানীর উত্তরখানের মইনারটেক-এ প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘দারুল কুরআন ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা’।এছাড়াও তাঁর ও তার পরিবারের সদস্যরা অন্যান্য জায়গাতেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি সম্পৃক্ত আছেন বিভিন্ন সেবামূলক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সাথে।

খেলাধুলার প্রতি অসীম ভালবাসা আতিকুল ইসলামের।২০১৫ সালে বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহনের পর তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ভলিবল দল ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবল টুর্নামেন্ট’- এ প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন হয়।ক্রী ড়াঙ্গনে দায়িত্বশীল পদে থাকার সাথে সাথে নিজের ও প্রিয়জনদের শরীরচর্চ্চায়বিশেষ মনোযোগী তিনি। বন্ধুদের নিয়ে প্রতিদিন সকালে বাসার পাশে উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে
অনেকটা সময় ধরে জগিং করেন। এ এলাকার সাধারণ মানুষদের শরীরচর্চা, স্পোর্টস এবং আড্ডার কেন্দ্র হিসেবে আতিকুল ইসলামের উদ্যোগেই গড়ে উঠেছে ‘বাংলাদেশ ক্লাব’।

আপন ঘরে আতিকুল ইসলাম একজন অপার স্নেহশীল বাবা আর বন্ধুসম স্বামী। স্ত্রী ডেন্টাল সার্জন শায়লা সাগুফতা ইসলাম এবং একমাত্র সন্তান ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’- এ গ্রাজুয়েশন শেষ করা বুশরা আফরিনকে নিয়ে আতিকুল ইসলামের ‘অতি সাধারণ জীবন যাপন’। তাঁর সকল কাজে, সকল সাফল্যের পেছনেই সার্বক্ষনিক প্রেরণাদায়ী স্ত্রী শায়লার অসামান্য অবদান রয়েছে।ভাই-বোনদের প্রিয় ছোট ভাই, একইসাথে আত্মীয়-অনাত্মীয়-
এলাকার পরিচিত সকল মানুষের জন্যই আতিকুল ইসলামের দরজা সব সময়ের জন্য খোলা। বাসায় সারা বছর জুড়েই তাই নিয়মিত বসে পারিবারিক আড্ডা, হৈ-হুল্লোড়। কোলাহলের বাইরে নিজ গ্রামের পুকুরে মাছ ধরার আনন্দ উপভোগ করেন দারুনভাবে।পারিবারিক আয়োজনগুলোতে সংস্কৃতিমনা আতিকুল ইসলাম বাদ রাখেননা বিনোদনের অংশটুকুও। ঘরোয়া আমেজে থাকে আমন্ত্রিত শিল্পীদের গান পরিবেশনা, যাতে আতিকুল ইসলামকেও দেখা যায় হারমোনিয়াম নিয়ে গাইতে। সব ধরনের লোকসংগীতের প্রতি রয়েছে তাঁর বিশেষ অনুরাগ ও পৃষ্ঠপোষকতা। সহজ, সাধারণ এই লাইফস্টাইলই তাঁর সুখী জীবনের গোপন মন্ত্র।

রাজধানী ঢাকায় শৈশব-কৈশোর ও তারুণ্য পেরিয়ে জীবনের উল্লেখযোগ্য একটি সময়ে পার করে আসা আতিকুল ইসলাম এ নগরটিকে নিয়েপ্রতিটি সূর্যোদয়ের আগে স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখেন তাঁর সকল আন্তরিকতা ও পরিশ্রম দিয়ে এই নগরটাকে নতুন করে সাজানোর। আর সে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তাঁর আন্তরিক ও প্রত্যয়ী ইচ্ছের প্রতিফলন তিনি ঘটাতে চান এ নগরীর স্বপ্নচারী মানুষগুলোকে সাথে নিয়ে।

তিনি স্বপ্ন দেখেন –
প্রবীণ-শিশু-নারীবান্ধব টেনশনমুক্ত এক রাজধানী যেখানে ট্রাফিক জ্যামে অনির্ধারিত সময় আটকে থাকা নয়; নগরীর যানবাহনগুলো রাজপথে চলবে সুশৃঙ্খল নিয়ম মেনে। মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলি উঠিয়ে নিয়ে রাজধানীতে নামানো হবে পর্যাপ্ত সংখ্যক নতুন বাস। নারীদের জন্য থাকবে আলাদা বাস। যানজট কমাতে তৈরি করা হবে বহুতল কারপার্কিং। বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা দূর করতে রাজধানীর খালগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। স্বাস্থ্যকর রাজধানী গড়তে ‘আধুনিক ও বিশ্বমানের বর্জ্যব্যবস্থাপনা’ তৈরি করা হবে। হাইড্রোলিক হর্ণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে ঢাকা হবে শব্দ দূষণমুক্ত। ফুটপাথগুলো হবে অবৈধ দখলমুক্ত। পরিপাটি আর মুক্ত ফুটপাথগুলো ধরে হেঁটে যাবে নারী-শিশু-প্রবীণ-প্রতিবন্ধীরা। নগরজুড়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকবে পানীয় জল ও পরিচ্ছন্ন-আধুনিক টয়লেট সুবিধা। নগরীর পার্কগুলো দখলমুক্ত ও সংস্কার করে সেগুলোতে থাকবে নাগরিকদের বিচরণ। মাদকাসক্তি দূর করতে পার্কগুলোতে তরুণদের সময় কাটানোর জন্য থাকবে বিভিন্ন খেলাধুলা ও শরীরচর্চ্চার আয়োজন ।

আপনারাও আসুন তবে, আপনাদের ভাবনাগুলো নিয়ে – ‘আমাদের কাঙ্খিত নগরপিতার’ স্বপ্নের সাথী হয়ে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: