রানীর কুঠি। কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড়ে ত্রিপুরা রাজবংশের নির্মিত বিশ্রামাগার। ঐতিহাসিক রানীর কুঠিটি বর্তমানে ধ্বংসের পথে। চালার টিন ছিদ্র হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। দরজা-জানালা ভেঙে পড়ছে। এটা অনেকটা পরিত্যক্ত বাড়িতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় গবেষকদের মতে, তিন প্রতিষ্ঠানের টানাটানিতে প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার হচ্ছে না। বাড়িটি সংস্কার করে এখানে একটি ইতিহাস ভিত্তিক জাদুঘর করা যেতে পারে।

সূত্রমতে, রানীর কুঠি ও এর ভূমি জেলা প্রশাসনের আওতায় রয়েছে। লিজ সূত্রে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) এটি অতিথিশালা হিসেবে ব্যবহার করছে। এখানে বাংলাদেশের কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্টজনরা বিশ্রাম নিয়েছেন। ধর্মসাগরের পাড়ে নির্মল বাতাসে এখানে থাকা অতিথিদের মনে ভালো লাগার পরশ বুলিয়ে যেত। রানীর কুঠিরের সামনে শানবাঁধানো ঘাট। গাছের ডালে পাখির কিচিরমিচির শব্দ অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি হতো। পানি পড়ায় অতিথিশালা এখন বন্ধ। কয়েকটি কক্ষ বার্ডের প্রকল্পের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

রানীর কুঠির ভিতরে বার্ড ইংরেজিতে একটি ধারণাপত্র টাঙিয়েছে। সেখানে উল্লেখ আছে, জনপ্রিয় বিশ্বাস অনুসারে, ধর্মসাগরের উত্তর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা ঘরটি ধর্ম মানিক্য দ্বারা নির্মিত হয়েছিল; তবে প্রমাণ আছে যে এই বাড়িটি মহারাজা উদয় মানিক্যের নির্দেশে নির্মিত হয়েছিল। বাড়িটি এখন রানীর কুঠি হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ সালে রানীর কুঠিরকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১.২৩ একর ভূমির ওপর নির্মিত রানীর কুঠিরকে প্রত্ননগর জাদুঘর করা হলে রানীর কুঠি সংরক্ষণের পাশাপাশি কুমিল্লার প্রত্ন সম্পদকে তুলে ধরা যাবে। এখানে কুমিল্লার কীর্তি ব্যক্তিদের স্মৃতি ও কুমিল্লার বিভিন্ন বিহার খননের পর প্রাপ্ত প্রত্ন সম্পদগুলো সংরক্ষণ করা হবে। প্রবীণ সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুল বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ১৯ শতকের প্রথম দিকে রানীর কুঠি নির্মিত হয়। এখানে নগর জাদুঘর করার জন্য স্থানীয় সুধীজন দাবি জানিয়ে আসছেন। ভবনটি সংস্কার করে এখানে নগর জাদুঘর স্থাপন করা হোক।

বার্ড পরিচালক (প্রশাসন) ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভূমির বিষয়টি ফয়সালা হলে আমরা রানীর কুঠিরের সংস্কারে যেতে পারব। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান জানান, বর্তমানে বার্ড রানীর কুঠিকে অতিথিশালা হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা সরে গেলে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাদুঘর স্থাপনের কাজ শুরু করব। এখানে জাদুঘর নির্মিত হলে কুমিল্লাবাসীর বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বার্ড রানীর কুঠি দেখভাল করছে। ভূমিটি আমাদের। আমরা চিন্তা করছি ভূমিটি ফিরিয়ে নেব।

সূত্রঃ বিডি প্রতিদিন

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: