কুমিল্লার কালিরবাজার ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে গণপিটুনীতে নিহত ৬ মামলার আসামী এলাকার চিহ্নিত ডাকাত সর্দার পারভেজ হোসেনকে “ছাত্রদল নেতা” বানিয়ে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ লিপিতে জানান, গত ১০ জুন সন্ধ্যায় কমলাপুর দিঘিরপাড় এলাকায় ছিনতাইকালে এলাকাবাসী হাতে-নাতে ডাকাত পারভেজকে আটক করে গনপিটুনী দেয়। পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাকে উদ্বার করে হাসপাতাল নেওয়ার পথে মারা যায়। গণপিটুনীতে নিহত পারভেজ হত্যার ঘটনায় নাজিরা বাজার ক্যান্টনমেন্ট ফাঁড়ির এসআই মাহাবুবুর রহমান বাদী হয়ে এলাকার দেড়শ লোকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ ঘটনার পর এলাকার একটি কুচক্রি মহল ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার জন্য তারা উঠে পরে লেগেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এ নিয়ে কোন কথা বলাতো দূরের কথা ‘ডাকাত নিহত’ হওয়ার ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তবে কুমিল্লা শহরের এক যুবদল নেতা পারভেজ কে কর্মী দাবী করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। শনিবার কুমিল্লার একটি হাইওয়ে হোটেলে নিহত পারভেজের মা-স্বজনদের ডেকে নিয়ে তারেক জিয়ার অনুদান দেওয়ার নাম করে নাটক সাজিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র করার অপচেষ্টা করছে। এসব নেতৃবৃন্দ সংবাদ পত্রে বিবৃতি দিয়েছেন ,তারা নাকি স্থানীয়দের বাঁধার মুখে এলাকায় ডুকতে পারেননি। আমাদের জানা মতে. শনিবার বিএনপির কোন নেতা কালিরবাজারে আসেননি। সর্বজন স্বীকৃত ডাকাতের পক্ষে এলাকায় আসলে জনরোশের মুখে পড়ার ভয়ে তারা এলাকায় না এসেই এসব বানোয়াট অভিযোগ করছেন। রবিবার (২৮ জুন) কুমিল্লার কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় তাদের মিথ্যা ও ভুয়া অভিযোগের ভিত্তিতে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে আমরা এসব সংবাদ ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিরবাজার ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো.মোস্তফা ,ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দিন, প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা ছিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো.আলমগীর হোসেন, সমাজ সেবক রুহল আমিন,অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম সহ এলাকার লোকজন জানান, নিহত পারভেজ হোসেন এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিল। তার অত্যাচারে বিশেষ করে সৈয়দপুর,বেজবাড়ী গ্রামের লোকজন অতিষ্ঠ ছিল।

তারা আরো জানায়,কমলাপুর গ্রামে আবদুল মবিনের পুত্র পারভেজ শিশু অবস্থায় মা গোলাপী বেগম তালাকপ্রাপ্ত হলে সে মায়ের সাথে ছোট বেলায় মামার বাড়ি পাশের গ্রাম সৈয়দপুরে বড় হয়। অভিভাবক শূন্য পারভেজ ছোটবেলায় অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়ে। লেখাপড়ার হাতে খড়ি পায়নি কোন প্রতিষ্ঠানে। প্রায় এক দশক আগে সৈয়দপুর বিএডিসি সংলগ্ন বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পরে জেলে যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে তার অপরাধ জগতের সীমা। চট্রগ্রামের সীতাকুন্ডু এলাকায় মহাসড়কে ডাকাতিকালে সে কয়েক বছর আগে আবার আটক হয়। ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের আগে ও পরে মহাসড়কে অগ্নি সন্ত্রাসে সে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে অংশ নেয়। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভাড়াটিয়া গুন্ডা হিসেবে সৈয়দপুর ও কমলাপুরে পুলিশ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর গুলি বর্ষণ ও মটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনায় সে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এছাড়া সে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ভাড়াটিয়া হিসাবে খেটেছে অনেক জায়গায় বলে জানান ভোক্তভোগীরা। মারা যাওয়ার এক মাস আগেও স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোস্তফাকে পিস্তল ঠেকিয়ে চাঁদা দাবি করেছিল পারভেজ। তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ছিল সৈয়দপুর বাজারের ব্যবসায়ীরাও। নারী নির্যাতনের বেশ কয়েকটি অভিযোগ ছিল। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি সে ভয় দেখিয়ে মহিলাদের উঠিয়ে নিয়ে নগ্ন ছবি ভিডিও করে ব্যাকèমেলিং করে চাঁদা আদায় করত । তার ৩ স্ত্রী রয়েছে।

কোতয়ালীর কালিরবাজার, বুড়িচংয়ের ময়নামতি, নিমসার এলাকা জুড়ে মহাসড়ক ভিত্তিক তার একটি নিজস্ব গ্যাং গ্রুপ ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালী, বুড়িচং ও চট্রগ্রামের সীতাকুন্ড থানায় চুরি ছিনতাই ডাকাতি সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের ঘটনায় ৬টি মামলা রয়েছে। তার অপকর্মে এলাকাবাসী ক্রমেই ফুঁসে উঠলে স্থানীয় এলাকাবাসীর চাপের মুখে পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। গত ১০ জুন বুধবার সন্ধ্যায় কালিরবাজার ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে ছিনতাই করতে গেলে তাকে গণপিটুনীতে মারাত্মক জখম করা হয়। মূমূর্ষ অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।

কালিরবাজার ইউনিয়নের অধিবাসী আদর্শ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক কাজী খোরশেদ আলম বলেন,এলাকার চিহ্নিত ‘ডাকাত সর্দার’ পারভেজ যদি ছাত্রদল নেতা বা কর্মী হন তাহলে আবারো প্রমান করে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। চোর -ডাকাত বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মী- এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

এ বিষয়ে কালিরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো.সেকান্দর আলী জানান, গণপিটুনীতে নিহত পারভেজ এলাকার একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মিরেরসরাই থেকে কাচপুর পর্যন্ত চিহ্নিত ডাকাত । মারা যাওয়ার কয়েক দিন আগে মনিপুর এলাকায় কাভার্ডভ্যানে ডাকাতি করতে গিয়ে ৩ সহযোগী আটক হলেও সে পালিয়ে যায়। তার সহযোগী সৈয়দপুর গ্রামের আবদুল কাদেরের পুত্র রুবেল ও রবিউল, সিরাজ মিয়ার পুত্র বাদল বর্তমানে জেলে রয়েছে। পারভেজের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে পুলিশ খুঁজছিল। এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনীতি সে মারা গেছে। ডাকাত পারভেজ নিহতের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে। কিন্তু মুখোশধারী একটি কুচক্রী মহলের ইশারায় কুমিল্লা মহানগরের একজন যুবদল নেতা ডাকাত পারভেজের লাশ নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতি ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের ঘটনা এলাকাবাসী ঘৃন্যভাবে প্রত্যাখান করেছে।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, প্রাথমিকভবে আমরা জেনেছি ছিতাইকালে স্থানীয় লোকজনের গণপিটুনীতে পারভেজ নিহত হয়েছে। নিহতের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম, বুড়িচং, কোতয়ালীসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চুরিসহ ৫/৬টি মামলা রয়েছে। পরিবারের কেউ মামলা করতে এগিয়ে না আসায় ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাহাবুব বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা এক দেড়শ লোকের বিরূদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় কারা জড়িত তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: