কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একাধিকস্থানে আবাসিক গ্যাস সংযোগ লাইন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবাধে অবৈধ সংযোগ নেওয়ায় যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সাধারন মানুষ। এতে ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে খেয়াল নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্র বাখরাবাদ। জেলায় রয়েছে এর লাখ লাখ আবাসিক ও বানিজ্যিক গ্রাহক। বৈধ সংযোগের বাইরে প্রতিষ্ঠানের অসাধূ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ রাজনৈতিক প্রভাবশালী কেউ কেউ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্নস্থানে হাজার হাজার আবাসিক সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে ,অবৈধ সংযোগ টানার পর কখনো কখনো বাখরাবাদের ভ্রাম্যমান আদালত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও পুনরায় সংযোগ টেনে নিচ্ছে ওই অসাদূ চক্রের লোকজনদের সহায়তায় গ্রাহকরা। ফলে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছেনা। এঅবস্থায় অনেক স্থানে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক গ্রাস সংযোগ। ফলে যে কোন মুহুর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে খুব একটা নজরদারী নেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

এমনি কিছু ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক সংযোগ রয়েছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের শিবরামপুর ও মোকাম ইউনিয়নের আবিদপুর-নিমসার সড়কের কোরপাই এলাকায়। আবিদপুর সড়কটির পাশ দিয়ে কোরপাইসহ আশপাশের বেশ কটি গ্রামে নেওয়া আবাসিক সংযোগটি অপরিকল্পিতভাবে বাসা-বাড়িতে টেনে নেওয়ায় ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকস্থানে গ্যাসের লাইন মাটির নীচ দিয়ে না নিয়ে মাটির উপর দিয়ে টেনে নিয়েছে। মাটির উপরে থাকায় প্রতিদিনই ক্ষয় হচ্ছে পাইপের উপরের অংশ।

স্থানীয় এলাকাবাসী অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সড়কের পাশে মাটির উপরে থাকা গ্যাসের পাইপ লাইন নিয়ে মোবাইল ফোনে বা স্বশরীরে বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড’এর একাধিক কর্মকর্তাকে অবহিত করলেও অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিনেও গ্যাস লাইনটির নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এদিকে একই উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের শিবরামপুর এলাকা ঘুরে পাওয়া চিত্রে দেখা গেছে চরম বিপদজ্জনক অবস্থায় রয়েছে এখানকার আবাসিক সংযোগ লাইন। বুড়িচং উপজেলা সদর থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে জেলা সদর ছাড়াও দেশের বিভিন্নস্থানে যাতায়াতের প্রধান ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর-বুড়িচং সড়কটির শিবরামপুর এলাকায় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রদানের চিত্র ফুটে উঠেছে। এই সড়কটির পিচ উঠিয়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে অসংখ্য সংযোগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হলে বেরিয়ে আসে গ্যাস পাইপ। বর্তমানে চলমান কাজটির উপরের অংশে থাকা গ্যাস পাইপের উপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ডভ্যান, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিক্সা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল চলাচল করার ফলে এসব যানবাহনের চাকায় এরই মাঝে গ্যাস পাইপলাইনের উপরের অংশে থাকা সাদা-কালো প্লাস্টিকের টেপ উঠে পাইপলাইনের ক্ষয় হচ্ছে। এই এলাকার অনেকেও মোবাইল ফোনে বা পরিচিত বিভিন্ন মাধ্যমে বাখরাবাদ গাস কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করার কথা জানালেও অজ্ঞাত কারণে এখানেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা। ফলে যে কোন সময় ক্ষয়ে যাওয়া পাইপ বিস্ফোরিত হয়ে বড় রকমের জানমালের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সুত্র জানায়, অসাদূ গ্যাস সংযোগকারীরা অনেকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তড়িগড়ি করে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এই সংযোগ টেনেছে। ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার মানুষসহ যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।

ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাখরাবাদের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আবুল বাশার বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে জেনেছি, দ্রুত এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: