ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ১ নং আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ড রাজাপুর গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য (মেম্বার) আবুল কালাম (৪৫)। ইউপি সদস্য হয়েও পেশায় তিনি একজন সি এন জি চালক।

আগে পেশায় দোকান ব্যবসায়ী হলেও নিজের একটি সিএনজি ও নগদ প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক নগদ অর্থও ছিলো আবুল কালামের। এভাবেই খুব সুখে শান্তিতে বাবা, মা, দুই ভাই-বোন নিয়ে ভালোই চলছিলো তার পরিবার। পরে এলাকার মানুষের ভালবাসা আর পরামর্শে বিগত ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন আবুল কালাম। সেই নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়ে রাজাপুর গ্রামের মেম্বার হন তিনি।

তারপর থেকে প্রায় পাল্টে যায় রাজাপুর গ্রামের চিত্র।যেই গ্রাম ছিলো মাদক, বাল্য বিবাহ, মামলা, কলহসহ নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। তিনিসহ এলাকার যুবসমাজের প্রচেষ্টায় সেই গ্রামই এখন প্রায় ভালোর দিকে।

তিনি মেম্বার হওয়ার পূর্বেও মামলা দেয়ার রেকর্ডে এই গ্রামটাই ছিলো বরুড়ার শ্রেষ্ঠ গ্রাম।কিন্তু সেখানে আজ মামলা প্রায় শূন্যের কোঠায়। সব ঠিকঠাক চলছে, কিন্তু ব্যাক্তি আবুল কালামের জীবন চলছে সাদামাটা। নির্বাচনেই তার সারা জীবনের সঞ্চয়ের নগদ টাকা খরচ করতে হয় এবং নির্বাচন পরবর্তীতে এলাকার বিভিন্ন দাওয়াত ও প্রোগ্রামের অংশগ্রহণ এবং পরিবার চালাতে বিক্রি করতে হয় তার একমাত্র সম্বল সিএনজিটিও।

এখন পরিবার চালাতে ছোট ভাইয়ের হাতে দোকানদারি করা দোকানটিও চলছে কোনোরকমে। যেখানে পাওয়া যেত সকল মুদি মালামাল এখন সেখানে চা বিক্রি করেই পার করতে হচ্ছে। দোকানের পণ্য কেনার মতও আর্থিক অবস্থাও নেই আবুল কালামের। এত কঠিন অবস্থায় তিনি আপোষ করেননি। করেননি কখনো ঘুষ কিংবা লোভের সাথে আপোষ। গ্রামে সকল সালিশ এবং বিভিন্ন সমস্যায় তিনি নিজ উদ্যেগেই এগিয়ে যান মানুষের পাশে।

সময়ে সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের সকল সুবিধা বুঝিয়ে দেন জনগণের মাঝে। সেই মানুষটাই আজ পেটের তাগিদে ভাড়ায় সিএনজি চালিয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন এবং প্রায় বারো জনের সংসারের ব্যয় বহন করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্যের ভাড়া করা সিএনজি চালান তিনি।

নিজের জীবনের এই পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আজকের কুমিল্লাকে জানান, ‘মানুষের ভালবাসায় তাদের সেবার কাজে এসেছি। কিন্তু সৎ ভাবে থেকে আজ আমি প্রায় সহায় সম্বলহীন। আমি এত কিছুর পরেও আল্লাহ্‌র উপরই ভরসা রাখি।সিএনজি চালানোর মত কষ্টের কাজও করতে হচ্ছে পেটের তাগিদে। বয়স হয়ে যাওয়ায় কষ্ট হয় ।

এ বিষয়ে ১নং আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম ভুঁইয়া শাহীন বলেন, ‘জনগণের সেবা করলে এমনি হওয়া উচিৎ। এটা বিশেষ কিছু না। পরিশ্রম তো করতেই হবে। তিনি একজন আদর্শ সেবক। আমার এরিয়ায় সবাই-ই এমন।’