ডেস্ক রিপোর্টঃ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করে ভূক্তভোগী ভোক্তা পেলেন পাঁচ হাজার টাকা। অধিদপ্তরের কুমল্লিাস্থ জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার টমছম ব্রিজ এলাকায় বসবাসরত একজন ভোক্তা একই এলাকার ইমানিয়া বেকারি থেকে গত মাসে ৮০ টাকা দিয়ে দু’প্যাকেট বিস্কুট কেনেন। কিন্তু বাসায় নিয়ে প্যাকেট খুলে দেখেন তেলাপোকার পা সহ বিস্কুট প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি ঘৃণায় বিস্কুট না খেয়ে প্যাকেট ও বিস্কুটের ছবি তুলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন এবং অবহেলার মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত এ প্রতিষ্ঠানের বরিুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেন।

২০ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার কুমিল্লাস্থ জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো: আছাদুল ইসলামের তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তাদের ভূল হয়েছে মর্মে ইমানিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের দোষ স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এমন হবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। ফলে সহকারি পরিচালক আইনের ৭০ ধারায় বর্ণিত অধিপ্তরের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ইমানিয়া বেকারিকে আইনের ৫৩ ধারায় (অবহেলা দ্বারা স্বাস্থ্যহানী ঘটানোর অভিযোগে) ২০,০০০/- জরিমানা করেন। তদন্ত শেষে উপস্থিত অভিযোগকারীকে আইনের ৭৬(৪) ধারা মোতাবেক ঐ জরিমানার ২৫% হিসাবে ৫,০০০/- প্রদান করা হয়। এক প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগকারী ভোক্তা জানান, “ইমানয়িার বিস্কুট আমার খুব প্রিয় ছিলো। কিন্তু এখন এটা দেখে আমার রূচি উঠে গেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিপ্তরকে ধন্যবাদ জানাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।”

জেলা কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, জনাব মো: রফিকুল ইসলাম নামের একজন ভোক্তা কান্দিরপাড় এলাকায় ‘উইনডোজ কারর্টেইন’ নামের একটি পর্দার দোকানে ৭ ফুট/৪৫ইঞ্চি মাপের ৩০ পিচ পদার অর্ন্ডার করেন। কিন্তু পরিমাপে কম করে প্রস্তুত করে তা সরবরাহ করলে তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন এবং বুকিং দেওয়া টাকা ফেরত চান। কিন্তু দোকানী তার সাথে খারাপ আচরণ করেন ফলে তিনি জেলা কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। মঙ্গলবার তদন্তে এর সত্যতা মিললে দোকানী ক্ষমা চান ও বুকিংয়ের টাকা ফেরত দেন। ভবিষ্যতে এমন হবেনা বলে অঙ্গীকার করেন।

অন্যদিকে, জেলা কার্যালয়ের নিয়মিত তদারকি কার্যাক্রমে মঙ্গলবার শহরের ঢাকা রস্তেোরাকে ক্ষতিকারক সোডা মেশানোর অভিযোগে ৫ হাজার টাকা এবং ঔষধের গায়ের মূল্য পরিবর্তন করে বিক্রয় করায় মেসার্স হলি মেডিকো ও মেসার্স ড্রাগ সেন্টারকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। ভোক্তার যেকোনো অভিযোগ দ্রুততার সাথে সমাধান করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: