ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলা সীমান্তবর্তী এলাকায় আনন্দপুর গ্রামের সুলতান মিয়া প্রতিদিনের ন্যায় কালিকাপুর বাজারে তার চা দোকানে যান দোকানদারি করতে। এই একটি দোকানের উপর নির্ভর করে মেয়ের বিয়ে, ছেলের লেখাপড়া ও সংসারের বরণ পোষণ চালান তিনি। বয়স যতই বাড়ছে সুলতান মিয়ার ততই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আগের মতো তার দেহ চলে না। তাই বাবার দুঃখ দুর করতে তার ছেলে রুবেল ও আবুল খায়ের মাঝে মধ্যে তাদের চা দোকানে সময় দিতেন।

প্রতিদিনের মতোই দোকান বন্ধ করে সন্ধ্যার পরে বাড়িতে যেতেন তারা। হঠ্যাৎ এক রাতের আধাঁরে খায়েরের দেহ জুড়ে এলাকার সুন্দর আলীর বাহিনীর লোকের এলোপাথাড়ী আঘাতে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয়। দুঃখ দুর করার আগেই খায়েরকে হত্যা করে সুলতানের সর্বসুখ কেঁড়ে নিল সুন্দর আলীর বাহিনীরা।

ওই কাল রাত ছিল ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ইং তারিখে। ওই দিন রাতে ৮ টায় কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের সুলতানের ছেলে রুবেল ও আবুল খায়ের কালিকাপুর বাজারের তাদের চা দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা দিয়ে তাদের বাড়ির দক্ষিণ পাশে চলাচল রাস্তার উপর পৌঁছানো মাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে সুন্দর আলী ও তার বাহিনী কবির, জুয়েল, জসীম, রবিউল, আলমগীর, ফরিদ মিয়া,জাকির হোসেন, ইস্রাফিলসহ সঙ্গবঙ্গ নিয়ে তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তাদের চলার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে আবুল খায়ের ও রুবেল কিছু বলে উঠার আগেই সুন্দর আলীর নির্দেশে তাদেরকে এলোপাথাড়ী ভাবে মারধর করা শুরু করেন। এতে দেশীয় অস্ত্র লাঠি ও ছেনীর আঘাতে আবুল খায়ের ও রুবেল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখে তখন স্থানীয়রা আহত দুজন’কে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা এলিফেন্ট রোড জেনারেল মেডিকেল হসপিটালে আবুল খায়েরকে আইসিইউতে এবং আহত রুবেল’কে ঢাকা অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করান।

দীর্ঘ ৮দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল খায়ের মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে শোকের কালোছায়া নেমে আসে।একটি মসজিদ সংক্রান্ত জেড়ে ঘটনাটি ঘটিয়াছে বলে জানান খায়েরের বাবা।

এদিকে ঘাতকরা বাড়িঘর ফেলে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। সুলতান মিয়া বাদী হয়ে ঘাতক জাকির হোসেন (৩৫), মো: জলিল মিয়া (৫২), মো: কবির হোসেন (৩৩), মো: জুয়েল হোসেন (৩৩), মো জসীম (২৯), মো: সুন্দর আলী (৬৫), মো: ফরিদ মিয়া (৬২), রবিউল (৩০), আলমগীর (২৪), মো: ইস্রাফিল (২৮), আনোয়ার হোসেন (৩২), আব্দুল কাশেম (৫৬), আব্দুল কাদের জিলানী (৪২)নামে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় যার মামলা নং-৩৮১। এর মধ্যে আট জনকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থান থেকে বুড়িচং থানার পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

তবে তাদের মধ্যে কয়েক জন জামিন নিয়ে এসে এলাকার কিছু অসাধু প্রভাবশালীদেরকে সাথে নিয়ে হুমকি দুমকি প্রদান করে আসছে। এবংকি যারা সাক্ষী দিয়েছিলেন তাদেরকে ও কোটে হাজির না হওয়ার জন্য বাধা প্রদান করছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন বাদীপক্ষ খায়েরের বাবা কোর্টে যাওয়ার পথে কুমিল্লায় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসকর্তৃক তাদের গতিপথ বাধা হয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন। খায়েরের ভাই পারভেজ বাবু কুমিল্লা কলেজে যাওয়ার পথে ওই ভাড়াটিয়া সন্ত্রাস কর্তৃক কয়েকবার আক্রমনের স্বীকার হয়েছেন। এদিকে খায়েরের বাবা মো: সুলতান মিয়া কবরের পাশে গিয়ে কান্নাকাটি করছে তাকে ছেলে হারানোর বেদনা কেউ আজও থামাতে পারেনি। তিনি সাংবাদিককে জানান, ঈদে সব সন্তানকে কাছে পেলেও আমার ছেলে খায়েরকে কাছে পাইনি। আপনারা আমার খায়েরকে এনে দেন। এই কথা বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আর চোখের জল গড়িয়ে পড়েছে তার দেহে। তিনি আরও জানান, আমার ছেলে খায়ের হত্যার প্রকৃত আসামীরা এখনও আইনের আওতায় আনা হয়নি। তারা এলাকার প্রভাবশালী ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দ্বারা বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি ধুমকি দিয়ে আসছে। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতা ভোগছি। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবী আমার ছেলে খায়ের হত্যার বিচার চাই।

এদিকে মামলার আয়ু বুড়িচং থানার এসআই মো: ইয়াছিন মিয়া জানান, খায়ের হত্যার বাদী পক্ষের অভিযোগ পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক তদন্ত নিয়ে আদালতে চার্টশীট জমা দিয়েছি।