ঝাউতলায় নাইটগার্ডের চাকরী করে সোবহান মিয়া। তাসবী জপছিলেন। রাত দেড় টা। সবুজ গেঞ্জী পরিহিত একদল যুবক আসলেন। সোবহান মিয়ার হাতে এক প্যাকেট খাবার তুলে দিলেন। আলহামদুল্লিল্লাহ বলে খাবার গ্রহন করলেন সোবহান মিয়া।

একইভাবে বাদুড়তলায় নিজের ভ্যানগাড়িতে শুয়ে আছেন রফিক। দিনে ভ্যান চালান। রাতে ওই ভ্যানেই শুয়ে থাকেন। যুবকদের একজন মৃদু করে ডাকছেন ও চাচা উঠেন। ভ্যান চালক রফিক উঠলেন। তার হাতে সেহেরী তুলে দিলেন যুবকরা। হাসিমুখে সেহেরী হাতে নিলেন। যুবকদের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করলেন ভ্যান চালক রফিক মিয়া।

প্রতিরাতে পথের পাশে শুয়ে বসে থাকা মানুষ গুলোর কে সেহেরী পৌছে দিয়ে নিজেদের সেহেরী মুখে তোলেন সংগঠনের সদস্যরা ।

সেহেরী বিতরন করা ভলান্টিয়ারদের একজন কো অর্ডিনেটর কায়সার জামান কায়েস । তিনি জানান, প্রথম রমজান থেকে ভাসমান মানুষদের সেহেরী বিতরন করে আসছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত মানবিকতা। প্রতিরাতে সেহেরী বিতরনে উপস্থিত থেকে বিতরন কার্যক্রমকে তরান্বিত করেন আরিফুর রহমান, মায়জুদ জামান মিশার, মোঃ বাপ্পি রাজ, সাহেল আহমেদ সাজিত, রবিউল আলম শুভ, মোশারফ মজুমদার মুন, সাকিবুল ইসলাম শুভ, তামিম চৌধরী, খালেদ আহমেদ তানিম, মোশারফ হোসেন সুজন,ফয়সাল আলম তানভীর, স্বপনীল তুহিন, মোঃ ফরহাদ রানা, নাজমুল হাসান অনিক, মোঃ সাইদুর রহমান সাফি, রাজিবুর রহমান সাগর আদনান রকি ও রিয়াদ হোসেন বাদশা।

কাউছার জামান কায়েস আরো জানান, জাগ্রত মানবিকতার পক্ষ থেকে প্রতিরাতে অন্তত দু’শো ভাসমান মানুষের মাঝে সাহরী বিতরন করা হয়। আর পুরো কাজটা তদারকি ও দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক তাহ্সীন বাহার সূচনা ও জাগ্রত মানবিকতার পৃষ্ঠপোষক সাইফুল আলম রনি।

সেহেরী কার্যক্রমের ভলান্টিয়াররা জানান, ভাসমান মানুষগুলোর হাতে সেহেরী পৌছানোর পরেই আপু ,ভাইয়া ও আমরা সাহরী খাওয়া শুরু করি । পুরো রমজান মাসজুড়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাহরী বিতরন করা হবে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাহ্সিন বাহার সূচনা বলেন, জাগ্রত মানবিকতা জন্মলগ্ন থেকেই অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছে। করোনা সংক্রমনের প্রথম থেকেই নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করছে। করোনা সময় ও রমজান মাসেও জরুরী প্রয়োজনে রক্তদানের কর্মসূচী অব্যহত রেখেছি ।খাদ্য সামগ্রী বিতরন, রক্ত সংগ্রহ করে দেয়া ,ইফতার ও রাতে সাহরী বিতরনে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন সংগঠনের ভলিন্টিয়াররা। তাদেরকে আমি অবশ্য ভলিন্টিয়ার বলি না। তারা আমার ভাই।এই ভাইগুলো না থাকলে এমন মহৎ কাজগুলো করা কখনোই সম্ভব হতো না। আর নেপথ্য রয়েছেন কুমিল্লা গণমানুষের নেতা ও আমার উৎসাহ উদ্দিপনার উৎস আমার বাবা (আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার ) এবং সব সময় আমার পাশে পেয়েছি সাইফুল আলম রনিকে ।

সবশেষে বলতে চাই, আমরা পুরো জাগ্রত পরিবার বিশ্বাস করি “শুভ চেতনার ধমনী কথনো রক্তশূন্য হয় না “। সবার কাছে দোয়া চাই মানুষের সেবা করার মধ্য দিয়ে জীবন পার করে যেতে পারি ।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: