ডেস্ক রির্পোটঃ কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধ জড়িয়ে নিজ মেয়েকে অজ্ঞাত স্থানে আটক রেখে রাসেল হোসেন নামে এক কলেজ ছাত্রের বিরুদ্ধে অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে থানায় মামলা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ রাসেলকে গ্রেফতারের পর শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারগারে পাঠিয়েছে। রাসেল কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার উত্তর হাওলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। সেই কুমিল্লা পলিটেকনিকেল ইনস্টিটিউটের ছাত্র।

তার বাবা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘদিন যাবত উত্তর হাওলা গ্রামের এই বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মোতালেবের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছে আমার। এই নিয়ে আবদুল মোতালেব এবং তার ছেলেরা প্রায় সময় আমাকে হুমকি দিয়ে আসছেন মামলা-হামলা করবে এবং আমার ছেলেকে কারাগারে পাঠাবে।
তিনি আরও জানান, ছেলে রাসেল কুমিল্লা পলিটেকনিকেল ইনস্টিটিউটে পড়ালেখা করছেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসেন। তার পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটানো এবং আমাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ছেলের বিরুদ্ধে অপহরণের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করানো হয়েছে।

রফিকুল ইসলামের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত আবদুল মোতালেবের মেয়ে সায়মুন নাহারকে তার স্ত্রী, চাচা মিজানুর রহমান জবিউল্লাহ এবং মামা ওমর ফারুক মিলে পরিকল্পিতভাবে অজ্ঞাত আত্মীয়ের বাড়িতে আটক রেখে ঘটনা সাজিয়ে ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে অপহরণের মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আবদুল মোতালেবের মেয়ে অপহরণের ঘটনায় তার ছেলে জড়িত নয়। মামলার বাদী পক্ষ জানে তার মেয়ের সন্ধান। কারণ তারা পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। তাদেরকে গ্রেফতার করলে সঠিক তথ্য উঠে আসবে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে মামলার অভিযোগকারী সায়মুন নাহারের মা কামরুন নাহার সাংবাদিক নাম শুনে মোবাইল ফোনটি তার মামা ওমর ফারুকের কাছে দিয়ে দেন। তারপর মামা ওমর ফারুক জানায়, সায়মুন নাহারকে নাদিয়া নামে তার এক বান্ধবি বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছেন। বান্ধবির সাথে সায়মুন নাহার চলে যাওয়ার ঘটনায় রাসেল জড়িত কিনা, এমন সন্দেহে তার মা কামরুন নাহার ওই ছেলের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেছে।
তিনি আরও জানান, সায়মুন নাহার লাকসামে থেকে পড়ালেখা করায় তার মা লাকসাম থানায় মামলা করেছে।

লাকসাম থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, অপহরণের অভিযোগে রাসেল নামে এক ছেলেকে পুলিশ তার নিজ গ্রাম মনোহরগঞ্জ উত্তর হামলা থেকে গ্রেফতার করেছে। যার নং ১৩/০৭এর৩০/২৪-০৮-১৯। গ্রেফতারের পর শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওই আসামি অপহরণের ঘটনায় জড়িত কিনা মামলা তদন্ত করলে আসল তথ্য উঠে আসবে।