কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ ও বরুড়ার আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উপনির্বাচনে রাতে সিল মারা ঠেকাতে ভোটের দিন ভোরে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। প্রার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এই ব্যবস্থা নিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ ও আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত জাতীয় সংসদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে কোথাও কোথাও রাতের বেলায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে জিম্মি করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে অনেক নির্বাচনি কর্মকর্তা হয়রানির শিকার হয়েছেন। অনেক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রাতে না ঘুমিয়ে ব্যালট পেপার পাহারা দেন। ভোটাররাও নির্বাচন নিয়ে আস্থাহীনতায় থাকেন।

দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইফুল আলম, বরুড়ার আদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কিউ এম মাহফুজুর রহমান ও বিএনপির প্রার্থী মো. পারভেজ হোসেনসহ কয়েকজন কেন্দ্রে ভোরে ব্যালট পাঠানোর আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভোরে ব্যালট পাঠানোর বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, যাতায়াতের রাস্তাঘাট উন্নত। সকাল আটটার আগে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে। প্রশাসন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করবে।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে দাউদকান্দি উপজেলা গঠিত। এখানে চেয়ারম্যান পদে দুজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চার জন ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রার্থী রয়েছেন। এখানকার ১০২টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫০১ জন ভোটার রয়েছেন। এই ছাড়া বরুড়ার আদ্রা ইউনিয়নের উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী রয়েছেন।

কুমিল্লার বরুড়ার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন, এই ইউনিয়নে ভোরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। রাতের বেলায় সিল মারার কোনও সুযোগ নেই।

এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দাউদকান্দির প্রতিটি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে নির্বাচনের আগের দিন ব্যালট পেপার রাখা হবে। ভোটের দিন ভোর ছয়টায় ওই ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। তবে নির্বাচনি অন্যান্য সরঞ্জাম আগের দিন চলে যাবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: