ডেস্ক রিপোর্টঃ নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, আর নদী তীরে কাঁশফুলের মেলা জানান দেয় শরৎ এসেছে শারদীয় উৎসবের আগমনী বার্তা নিয়ে। সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব এটি। অশুভ শক্তির বিনাশ করতেই দেবী দুর্গা ধরণীতে আসেন বলে মনে করেন হিন্দু সম্প্রদায়। দেবীর আগমনের অপেক্ষায় দিন গুণছেন তারা।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার রামমোহন সার্বজনীন শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধামে পূজার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যেই প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ হয়েছে, চলছে কাঠামো নির্মাণ, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ। বাকী রয়েছে প্রতিমার গায়ে রং চড়ানো। আয়োজকরা জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে কুমিল্লা জেলার পুরো শহরে পূজা উদযাপনের সকল প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে, আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মাধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু এবং ৪ অক্টোবর ৬ষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা জানান, অন্যান্য বারের চেয়ে এবার পুজোয় থাকছে আধুনিক ব্যতিক্রমী প্রতিমা, সাজসজ্জা, সংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও অলোকসজ্জা। যা’ এবারের পুজোকে আরো আকর্ষণীয় করে ভক্তদের আকৃষ্ট করবে।

মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শ্রী গণেশ চক্রবর্তী জানান, এবারে দেবী দুর্গা আসছেন ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং ফিরবেন ও ঘোটকে । দেবীর এ (ঘোড়ায়) আগমনে “ছত্রভঙ্গ সুরঙ্গমে” অথার্ৎ দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, হানাহানি, সামাজিক বিশৃঙ্খলতার বার্তা রয়েছে বলে ধর্মীয় বিশ্বাস। তবে সব শঙ্কা ছাড়িয়ে শারদীয় দুর্গাপূজায় বিশ্বের সকল মানুষের শান্তি কামনায় শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব পালিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

রামমোহন সার্বজনীন শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধামের সভাপতি শ্রী নারায়ণ চক্রবর্তী আরও জানান, মন্দিরে সব ধরনের নিরাপত্তা রয়েছে এজন্য এখানে প্রতিবছর পূজা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। মন্দিরের চতুর্দিকে সিসি ক্যামেরা ছাড়াও রয়েছে পুলিশসহ প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।