কুমিল্লার সদর ঝাকুনিপাড়ায় পৈত্রিক সম্পত্তির বিরোধের জেরে স্ত্রীকে মারধর এবং স্বামীকে পিঠিয়ে ও শ^াসরোধে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় উত্তম চন্দ্র ঘোষ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ সময় হামলার শিকার পরিবারের বসত ও রান্না ঘর ভাংচুরের অভিযোগও রয়েছে। হামলা ও মারধরের শিকার স্বামী-স্ত্রী বর্তমানে কুমিল্লা সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনাটি ঘটে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ঝাকুনিপাড়া ঘোষবাড়িতে।

মারধর এবং পিঠিয়ে ও শ^াসরোধে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ভুক্তভোগি বাবুল চন্দ্র ঘোষ বাদি হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযুক্ত উত্তম চন্দ্র ঘোষ ও তার পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী বাবুল চন্দ্র ঘোষ ঝাকুনিপাড়া ঘোষবাড়ির মৃত অধীর চন্দ্র ঘোষের ছেলে।

অভিযুক্তরা হলেন, ঝাকুনিপাড়া ঘোষবাড়ির মৃত অধীর চন্দ্র ঘোষের ছেলে উত্তম চন্দ্র ঘোষ (৫০), তার ছেলে পাবেল চন্দ্র ঘোষ (২২) স্ত্রী সীমা রানী ঘোষ (৪০) ও আরেক ছেলে দুর্যয় চন্দ্র ঘোষ। আজ্ঞাতমানা আরও ২/৩ জন।

অভিযোগে বাবুল চন্দ্র ঘোষ জানায়, গত (৮মে) তার স্ত্রী স্বপ্না রানী ঘোষ বসত ঘরের পাশে রানানা ঘরে মাটির চুলায় রান্না করছেন। এসময় অভিযুক্ত পরিবারের সদস্য উত্তম চন্দ্র ঘোষের স্ত্রী অযথা গালিগালাজ করতে শুরু করে। একপর্যায়ের মাটির চুলাটি ভেঙ্গে ফেলে। এনিয়ে আমার স্ত্রী ডাক চিৎকার করলে অভিযুক্তরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার স্ত্রীকে এলোপাথারী কিল, ঘুষি, লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করে। আমার স্ত্রীর চিৎকার শুনে বাঁচাতে গেলে অভিযুক্তদের হাতে থাকা রড দিয়ে আমার মাথার তুলতে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এদিকে উত্তম ও তার ছেলে দুর্যয় আমার স্ত্রীর পড়নের কাপড় টাকা হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে এবং তার চুলির মুঠি ধরে প্রচন্ড মারধর করে। রড দিয়ে আঘাত করায় স্ত্রীর চোখের দুইপাশে রক্তাক্ত জখম হয়।

অন্যদিকে অভিযুক্ত পাবেল আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুই হাত দিয়ে আমার গলা চেপে শ^াসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। আমরা স্বামী ও স্ত্রী বাঁচার আকুতি জানিয়ে চিৎকার করলে আশ-পাশের বাসিন্দারা আমাদের প্রাণ রক্ষা করে। এরপর তারা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে আমার পরিবারকে বাড়িতে থাকতে দিবে না। আমাকে সুযোগ মত পেলে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়। বর্তমানে আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এদিকে অভিযুক্তরা আমার রান্না ঘর ভাংচুর ও বসত ঘরে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। বর্তমানে আমি ও আমার স্ত্রী কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছি।

হামলা ও মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত উত্তম চন্দ্র ঘোষের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগযোগের চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযুক্ত তদন্তকারী পুলিশ সদস্য চকবাজার ফাঁড়ির এসআই মো. সুমন মিয়া জানান, ভুক্তভোগি পরিবার থানায় অভিযোগ করার পর ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। এখনও মামলা এফএআর হয়নি। হলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: