ডেইলিকুমিল্লানিউজ ডেস্কঃ কুমিল্লার মুরাদনগর থানার শাখাওয়াত হোসেন এবং নুরে খোদা সিদ্দিকী নামে দুই সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) বিরুদ্ধে আটক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন সরকারের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর ভাগিনা পরিচয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা। এই দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীসহ নিরীহ লোকজনকে আটক করে হয়রানি ও হুমকির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার সাধারণ লোকজন, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তসহ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগে জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ফেনী থেকে এসআই শাখাওয়াত হোসেন এবং গাজীপুর থেকে এসআই নুরে খোদা ছিদ্দিকী মুরাদনগর থানায় যোগদান করেন। এরই মধ্যে এসআই জুটি হিসেবে তারা এলাকায় বেশ পরিচিত হয়ে ওঠেন। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে আতঙ্কে ও ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন ওই এলাকার ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। মুরাদনগরের বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীসহ বেশকিছু লোকজনকে কোনো অভিযোগ ও মামলা ছাড়াই আটক করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার বাখরাবাদ বাজারের ব্যবসায়ী মায়ের দোয়া ইলেকট্রুনিক্সের মালিক আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, ৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে এসআই শাখাওয়াত হোসেন ও নুরে খোদা ছিদ্দিকী তার দোকানে এসেই হাতে হাতকড়া পরিয়ে তাকে বাজারের বিভিন্ন অলিগলিতে ঘুরিয়ে অপমান ও লাঞ্ছিত করে। পরে তাকে রাস্তায় এনে ২ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে বিভিন্ন মোটরসাইকেল চুরির মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠাবে বলে হুমকি দেয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় কালামকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ব্যবসায়ী কালাম ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুহুল আমীন, সহসভাপতি জেইউ জুয়েলসহ ছাত্রলীগ নেতারা এসে থানা থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেন।
এ ছাড়া ৬ অক্টোবর এসআই জুটি উপজেলার বাখরনগর এলাকার ব্যবসায়ী হাজী আবদুল করিম ও কামরুলকে আটক করে। পরে ওই ব্যবসায়ীসহ আটক তরুণকে চোরাই মোটরসাইকেল ব্যবসা মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে দেড় লাখ টাকা আদায় করা হয়। কামরুলের ভাই সফিক জানান, এসআই শাখাওয়াতকে আমরা দেড় লাখ টাকা দিয়ে দু’জনকে ছাড়িয়ে এনেছি। জানা গেছে, এসআই শাখাওয়াত ২৬ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বার উপজেলা সদরের সরকার বাড়ির বাসিন্দা রহিম মিয়ার একটি সিএনজি আটক করেন। পরে ওই সিএনজিটি চোরাই অভিযোগ তুলে তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে রহিম মিয়ার ভাতিজা ব্যবসায়ী সোহাগের মাধ্যমে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই সিএনজি ছাড়িয়ে আনা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর মুরাদনগর উপজেলার মোচাগড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের একটি সিএনজি আটকের পর একই অভিযোগ করে তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলার পাঁচপুকুরিয়া গ্রামের ফারুক মিয়াকে দিনের বেলায় আটকের পর ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে রাতের বেলা ছেড়ে দেয়া হয়। স্থানীয়রা জানান, এসআই শাখাওয়াত ও এসআই নুরে খোদা ছিদ্দিকীর আটক বাণিজ্যের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ হচ্ছে। ওসির অগোচরে দুই এসআই এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তারা। এলাকাবাসী জানান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিতর্কিত এসআই শাখাওয়াত হোসেন এ থানায় বেশ কয়েক মাস চাকরি করেন। ওই সময় আওয়ামী লীগ নেতাসহ এলাকার নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করেছেন। এ ছাড়া তিনি ফেনীতে কর্মরত অবস্থায় একই কায়দায় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন বলেও পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুহুল আমীন জানান, সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাগিনা পরিচয়ে এসআই শাখাওয়াত এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার লোকজনকে আটক করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছেন। তিনি পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নবীপুর পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল খায়ের বলেন, শাখাওয়াত একজন বিতর্কিত দারোগা। কোনো অভিযোগ ছাড়াই তিনি আমার এলাকার ব্যবসায়ী হাজী করিম ও কামরুলকে আটকের পর দেড় লাখ টাকা আদায় করেছেন, আমি নিজেই বিষয়টি হস্তক্ষেপ করেছি। তবে আটক বাণিজ্যের এসব অভিযোগ ও টাকা আদায়ের বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন এসআই শাখাওয়াত ও এসআই নুরে খোদা ছিদ্দিকী। তারা বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এসব লোকজনকে আটকের পর মুচলেকা রেখে বিভিন্ন জনের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্রঃ যুগান্তর

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: