ডেস্ক রিপোর্টঃ প্রশাসনের কোন অনুমোদন নেই অথচ যাবতীয় রক্ত পরীক্ষা সহ চলছে সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা। ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নগরীর লাকসাম সড়কের টমছমব্রিজ এলাকার যমুনা ব্যাংক সংলগ্ন গলিতে অবস্থিত কুমিল্লা আলিফ ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারের সকল কার্যক্রম বন্ধ করেছেন সিভিল সার্জন। গত ৩০ অক্টোবর কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মুজিব রাহমান ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: শাহাদাৎ হোসেন অভিযান চালান প্রতিষ্ঠানটিতে। এসময় প্রতিষ্ঠান ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার কোন লাইসেন্স দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

ভূয়া এমবিবিএস চিকিৎসক কামাল হোসেনকেও পাওয়া যায়নি। কৌশলে তিনি পালিয়ে যান। এসময় প্রতিষ্ঠানটির সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন সিভিল সার্জন। পড়ে সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে ভবিষ্যতে রোগীদের সাথে এমন প্রতারণা করবেনা বলে মুচলেকা দিয়েছেন কামাল হোসেন। কামাল হোসেন একজন ওটি বয় এবং ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গেট খোলা। ভেতরে বসে আছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সহ অন্যান্যরা। গেটে লেখা আছে ‘সংস্কার কাজ চলছে সাময়িক সময়ের জন্য কার্যক্রম বন্ধ থাকিবে’।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মুজিব রাহমান বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কুমিল্লা আলিফ ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং একজন ভূয়া ডাক্তার নিজেকে এমবিবিএস পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এমন অভিযোগ আসার পর আমরা অভিযান চালিয়েছিলাম। অভিযান পরিচালনার সময় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোন লাইসেন্স দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া ভূয়া চিকিৎসককে আমরা হাতেনাতে ধরতে পারেনি এবং রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন এমন ব্যবস্থাপত্রও পায়নি। বিনা লাইসেন্সে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কারনে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত ভূয়া চিকিৎসক কামাল হোসেনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সামনে সরকারী নির্দেশে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আবদুল্লাহ আল সুজন বলেন, পাশের ডাযাগনস্টিক স্টোরের শেয়ার হোল্ডারের সাথে অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম চারিয়েচেন কিভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানেরপরিচালক সুজন বলেন, লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা আছে। কিছু দিনের মধ্যে লাইন্সে পেয়ে যাবো।