ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে টাকার বিনিময়ে কয়েদিরা মাদক থেকে শুরু করে কারাগারের হাসপাতালের সিটসহ সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের অভ্যন্তরে দায়িত্বরত সুপারভাইজারসহ দায়িত্বরত চিকিৎসকরা এসব টাকার ভাগ পান। কয়েকজন কয়েদির সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জানিয়েছেন, এমন অভিযোগ এখনও তাদের কাছে আসেনি।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেশীর এক মিথ্যা মামলায় ফেঁসে ২৭ দিন জেল খেটে জামিনে বের হয়েছেন আসিফ (ছদ্মনাম)। জানালেন জেলখানার নানা অনিয়মের কথা। আসিফ জানান, তিনি সুস্থ থাকলেও টাকার বিনিময়ে কারাগারের হাসপাতালে ছিলেন। কিন্তু সত্যিকারের যেসব অসুস্থ কয়েদি-হাজতি রয়েছেন তারা ঘুষ দিতে পারেন না বলে হাসপাতালের সিটের সুযোগ-সুবিধা পান না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কারাগারের হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা পেতে এক মাসে প্রতি কয়েদিকে সাত হাজার টাকা দিতে হয়। যার মধ্যে দায়িত্বরত চিকিৎসক এবং কারাগারের অভ্যন্তরে দায়িত্বরত সুপারভাইজারসহ অন্যরা এই টাকার ভাগ পান।

মাদক মামলায় তিন মাস জেল খেটে বের হয়েছেন চান্দিনার কুটুম্বপুরের হৃদয়। তিনি জানান, কারাগারের ভেতর টাকা হলে সবই পাওয়া যায়। কারাগারের বাইরে যত শৃঙ্খলা, ভেতরে ততোই বিশৃঙ্খলা। যাদের টাকা আছে তারা এখানে সর্বোচ্চ সুবিধা পান।

ময়মনসিংহ জেলা থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছেলেকে দেখতে এসেছেন আবদুল আজিজ। তিন ঘণ্টা পর ছেলের সঙ্গে দেখা করার সিরিয়াল এসেছে তার। ছেলের সঙ্গে ১০ মিনিট কথা বলে কারাগার থেকে বের হয়ে বলেন, ১০ টাকার টিকিট কেটে অপেক্ষা করেছি তিন ঘণ্টা। আর আমার অনেক পরে এসে একশ’ টাকার বিনিময়ে চার-পাঁচ জন লোক তাদের লোকের সঙ্গে দেখা করে গেলো।

বরুড়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, আমার পরিচিত এক কারারক্ষী আছে। যাকে ১০০/১৫০ টাকা দেই। তিনি সব ম্যানেজ করে ১০/১৫ মিনিটেই আমাকে দেখার সুযোগ করে দেন। আমি দিনে দু-তিনবারও দেখা করতে পারি। আমার ভাইকে গত ছয় মাস ধরে এভাবেই দেখছি।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন কারারক্ষী জানান, প্রতিমাসে জেলা প্রশাসক একবার কারাগার পরিদর্শনে যান। যে দিন জেলা প্রশাসক কারাগার পরিদর্শনে আসবেন তার আগের দিন কয়েদি হাজতিদের কোনও রকম অভিযোগ যেন জেলা প্রশাসককে না জানানো হয় তার জন্য হুঁশিয়ারি করা হয়। কারা অভ্যন্তরে পরিপাটি করে সাজানো হয় যেন জেলা প্রশাসক কোনও অনিয়ম না দেখেন।

একাধিক অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহানারা বেগম বলেন, ‘অসুস্থ হাজতিদের কারাগারের হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়, কোনও সুস্থ হাজতিকে নয়। সুস্থ হাজতি টাকার বিনিময়ে হাসপাতালে থেকে সেবা নিয়েছেন এমন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি।’

জেল সুপার আরও বলেন, ‘দর্শনার্থীদের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের টোকেন ছাপানো হয়। দর্শনার্থীরা হাজতে থাকা স্বজনদের বিনা পয়সায় দেখতে পারেন। টাকার বিনিময়ে কয়েদিদের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে দেখানো হয় এটি মিথ্যা অভিযোগ।’ এছাড়াও মাদক সরবরাহ ও সেবন, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগগুলো জেলা প্রশাসকের কাছে প্রকাশে কয়েদি ও হাজতিদের বাধা প্রদানের বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।

সূত্রঃ বাংলাট্রিবিউন

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: