নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লার প্রধান নদী গোমতী। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে উৎপত্তি এই নদীটি কটকবাজার হয়ে কুমিল্লা প্রবেশ করে। পরে সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, দেবীদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস, দাউদকান্দি উপজেলা হয়ে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। নদীর বিভিন্নস্থান থেকে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলার একাধিকস্থান দিয়ে এক শ্রেনীর লোক অবাধে ভারী যানবাহনে করে প্রতিরক্ষা বাধেঁর উপর দিয়ে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষত বিক্ষত গোমতীর দু’তীরের মূল বাঁধটি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন নজর নেই। আর এতে নস্ট হচ্ছে বাধঁ। আর এই বাধঁ মেরামতে সরকার প্রতি বছর গচ্ছা দিচ্ছে কোটি কোটি টাকা ।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিন জেলার বিভিন্নস্থানে গোমতীর বাধঁ ঘুরে পাওয়া তথ্য ও চিত্রে দেখা গেছে জেলার প্রধান এই গোমতী নদীটি প্রতিবছর বিপুল পরিমান বালু ও পলিমাটি বহন করে নিয়ে আসে। সরকারী কোন নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় নিয়মনীতি না মেনে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার থেকে তিতাস উপজেলার বিভিন্নস্থানে এক শ্রেনীর প্রভাবশালী লোক রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশদের ম্যানেজ করে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে নিচ্ছে। আর এসকল মাটি ও বালু ভারী ভারী যানবাহন দিয়ে নদীর প্রতিরক্ষা বাধেঁর উপর দিয়ে পরিবহন করছে। এতে সদও উপজেলার বিবিরবাজার, টিক্কাচর, দূর্গাপুর, ময়নামতি, কংশনগর, কোম্পানীগঞ্জসহ কমপক্ষে ১৫ টি স্থানে নদীর দু’তীরের প্রতিরক্ষা বাধঁ হুমকীর মুখে পড়েছে। সম্প্রতি দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে তিতাস উপজেলায় নদীর তীর ভেঙ্গে পড়ে। এছাড়াও নদীটির দু’তীরের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক স্থানে একশ্রেনীর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগীতায় মাটি কেটে দিনরাত অবাধে প্রতিরক্ষা বাধেঁর উপর দিয়ে বহন করে বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে নদীর প্রতিরক্ষা বাধেঁর অসংখ্যস্থান ক্ষতবিক্ষত।

আর নদীতীরের মানুষরা অজানা আশঙ্কায় থাকে বাধঁ ভেঙ্গে যাওয়ার। একাধিক নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,কারো কোন প্রতিবাদের সাহস নেই। কেউ যদি প্রতিবাদও করে তবে তার উপর হামলা মামলাসহ নানা অত্যাচার নেমে আসে। ড্রেজারের বিকট শব্দে নদী পাড়ের লোকজন স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতেও অসুবিধার মুখে পড়ছে। নদীর পাড় দিয়ে দিন-রাত ট্রাক্টর চলাচলে বাসা-বাড়ি ধূলায় নষ্ট যেমন হচ্ছে,তেমনি স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখায় সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে। আর এভাবে ভারী ট্রাক,ট্রাক্টও দিয়ে প্রতিরক্ষা বাধেঁর ভিতর থেকে অবাধে বালু ও মাটি বহন করায় এতে চরম হুমকীতে প্রতিরক্ষা বাধঁ। আর এত কিছু অনিয়ম গোমতীর মূল প্রতিরক্ষা বাধেঁর উপর দিয়ে প্রতিদিন হলেও কারো যেন বিষয়টির দিকে নজর নেই। নদী তীরের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,প্রভাবশালীরা নদীর বালু,মাটি প্রতিরক্ষা বাধেঁর উপর দিয়ে ভারী ভারী যানবাহনে পরিবহন কওে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। তাদের ব্যবহৃত যানবাহনের কারণে গোমতীর দু’তীরের প্রতিরক্ষা বাধেঁর বহুস্থান বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। আর এসকল ক্ষতিগ্রস্থ বাধেঁর মেরামতে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয করছে। নদী তীরের বিভিন্ন এলাকার একাধিক লোক জানান,গোমতীর চরে চাষাবাদ করে আমাদের পরিবারের সদস্যরা বছরের পর বছর জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন আর সেটাও সম্ভব হচ্ছেনা। প্রভাবশালীরা তাদের ইচ্ছেমতো যে যখন যেখান থেকে পারছে কেউবা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন কেউবা মাটি কেটে বিক্রি করছে। ফলে এখন আর আগের মতো গোমতীর চরাঞ্চলে চাষাবাদ হচ্ছেনা। ফলে নদী তীরের অসংখ্য কৃষকদের চরম মানবেতরভাবে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। বিষয়টি জানতে জেলা ও উপজেলার একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান,সবখানেই রাজনৈতিক পরিচয়ে বালু উত্তোলন ও ,মাটি কাটছে প্রভাবশালীরা। আমাদের পক্ষে সেটা বাধাঁ দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,রাস্ট্রের টাকায় বাধঁ মেরামতে সরকারের বিপুল টাকা খরচ হচ্ছে। আর প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে ভারী যানবাহন দিয়ে সেগুলো পরিবহন করায় সেই বাধঁ নস্ট হচ্ছে। সরকার যদি নদীর এই বালু ও মাটি বিক্রি ইজারার মাধ্যমে দিয়ে টাকা নিজেরা আদায় করেেত পারতো তবে সেই টাকা দিয়েই নদীর তীর সংরক্ষণ করা যেত।

এ বিষয়ে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুজাহিদ জানান, গোমতীর আইলের সিটি কর্পোরেশন অংশে সবটুকু কার্পেটিং করা হচ্ছে। বাকী অংশগুলি পর্যাক্রমে পাকা করা হবে। এসকল অংশ দিয়ে অবৈধ্য বালু ও মাটিবাহী ট্রাক্টর চলাচলের উপর বেশ কয়েক বার ভ্রাম্যমান আদাল পরিচালনা করা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারো অবৈধ্য বালু উত্তোলন ও পরিবহনের উপর অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: