ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিস দূর্নীতির অভয়ারণ্যে,নিজেই ভোক্তভুগি হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মহোদয় ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট….

১৬ তারিখ থেকে চেষ্টা শুরু করে ২২ তারিখ পর্যন্ত ৪ বার রিজেক্ট হই, দালাল ছাড়া আমার মেয়াদ উত্তির্ণ পাসপোর্টটি রি-ইস্যুর জন্য জমা দিতে পারলাম না, এই চার বার আমাকে রিজেক্ট করার অজুহাত গুলো ছিলো অতি সামান্য। মূলত একটা বাহানা মাত্র। মূল কারন আমার আবেদনে ছিলোনা দালালের সিম্বল ( আবেদনের বিশেষ যায়গায় সাইনপেন দিয়ে দালালের বিভিন্ন সিম্বল)। আমি বুঝতে পেরেছি তখন, যখন তারা ছোট ছোট বাহানা দেখিয়ে রিজেক্ট করে ৪ বার-তারপর মুখে বলে দেয় বাহিরে লোক আছে তাদের মাধ্যমে ঠিক করে জমা দিয়ে দেন, আমি অন্যদের কিছু আবেদন যাচাই করার জন্য দেখেছি। দেখলাম আমাকে যেইসব কারনে রিজেক্ট করেছে ঐ ত্রুটি গুলো অন্য সবার আবেদনেও আছে, কিন্তু তারা দালালের মাধ্যমে এসেছে, তাই তাদের সাতখুন মাফ।

এবার আসি প্রথমদিনের ঘটনায়ঃ

আমি ১৬ই সেপ্টেম্বর রি-ইস্যুর জন্য আবেদন জমা দিতে যাই কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিসে,প্রায় ৩০০ জন লোকের পিছনের সারিতে ৪ ঘন্টার পর আমার আবেদন ফরমটি দেখে বলে পৃষ্ঠাগুলো একসাথে করে নিয়ে আসুন বলে রিজেক্ট করে দেয়।

এবার আসি দ্বিতীয় দিনের ঘটনায়ঃ

সব ঠিকঠাক করে ১৭ ই সেপ্টেম্বর গিয়ে ২৫০ জনের পিছনের সারিতে ২ ঘন্টার রোদ্রে দাড়িঁয়ে থাকার পর ওনারা বলেন ভিতরে অনেক ত্রুটি রয়েছে হবেনা,আমি বারবার বলতেছি ত্রুটি কোথায় দেখিয়ে দিন ওনি এক আনসারকে ডেকে বলেন ওনাকে বলে দাও,আনসার বলেন আপনার ফরমে অনেক ত্রুটি আছে হবে না। আপনি বরং কাউকে দিয়ে জমা করিয়ে নিন বলে রিজেক্ট করে দেয়।

এবার আসি তৃতীয় দিনের ঘটনায়ঃ

ওয়েব সাইট দেখে ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করে নিয়ে আসি,কোথাও কোনো ভূল না দেখে বলা হলো জন্ম-নিবন্ধন অন-লাইন কপি নিয়ে আসেন,আবারোও রিজেক্ট।

এবার শেষ চতুর্থ দিনের ঘটনাঃ

অন-লাইন ফরমসহ তাদের কথামতোই সবকিছুই ঠিক রেখে ২০০ জনের পিছনের সারিতে থেকে প্রায় ৩ ঘন্টার পর ওনারা বলছেন এইটা অন-লাইন জন্ম-নিবন্ধন নয়,আপনি কম্পিউটার থেকে করে নিয়ে এসেছেন,অামি তাকে বললাম স্যার আমারটা অন-লাইনেই আছে আপনি দয়া করে চেক করুন,ওনি কোনো কথাই শুনছেননা,অন-লাইন চেক না করে ওনি বারবার বলতে লাগলেন অন-লাইনে নেই বরং আপনি বাহিরের কারোও কাছ থেকে করে নিয়ে আসেন,তা না হলে আপনি জমা দিতে পারবেননা। শেষবারের মতো আবারোও রিজেক্ট।

এবার যাই পাসপোর্ট অফিসের সহকারী উপ-পরিচালক জনাব রাজ আহম্মেদ স্যারের নিকট, স্যারতো আমার কোনো কথাই শুনছেননা বরং ওনি আমাকে পাসপোর্ট অফিস থেকে বের হয়ে সোজা চলে যেতে বলেন। তাদের এমন কর্মকান্ডগুলো আমাকে বুঝিয়ে দেয় দালাল ছাড়া পাসপোর্ট রি-ইস্যু করা সম্ভব নয়।

এই কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার পাসপোর্ট অফিসের বাইরে ভ্রাম্মমান আদালত ও RAB এর যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু দালাল ধরে জরিমানা সহ সাজা প্রদান করেছে।

কিন্তু কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিসের ভেতরের আসল দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা যাদের ছত্রছায়ায় দালালরা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে জনসাধারণের পাসপোর্ট ও অতিরিক্ত টাকা সংগ্রহ করে এবং দূর্নীতিবাজ সহকারী পরিচালক ও অন্যান্যদের কাছে পৌছে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে মানুষ যেনো দালাল বিহিন পাসপোর্ট করতে পারে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের দৃষ্টি কামনা করছি।

(একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ থেকে সংগৃহীত)