ডজনেরও বেশী মামলার আসামী বরুড়ার মইন্যা (৩২) ডাকাতকে আটক করেছে চান্দিনা থানা পুলিশ। কুমিল্লার চান্দিনার জোয়াগ এলাকা থেকে সোমবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সে বরুড়া উপজেলার ঝলম এলাকার চিতড্ডা ইউনিয়নের ভঙ্গুয়া গ্রামের মমিন ডাকাতের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ডজনেরও বেশী মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বুধবার তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চান্দিনা থানা ওসি মো. আবুল ফয়সল।

চান্দিনা থানা পুলিশ জানায়, ১১ মে রবিবার মনির ডাকাত ও তার সঙ্গীরা চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ এলাকার ফরহাদের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় এলাকাবাসীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।

চান্দিনা থানা পুলিশর এস আই মো. নাজির হোসেন জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। আহত আবস্থায় ডাকাত মনিরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তার একটি পা ভেঙ্গে দিয়েছে সাধারণ জনতা। ১২ মে তাকে চান্দিনা থানায় আনা হয়। বর্তমান সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে।

এ আসামি পুলিশের তথ্যে মনির হোসেন, মনির ডাকাত প্রকাশ মইন্যা চোরা হিসাবে পরিচিত। এর পূর্বে বহুবার গ্রেফতার হয়েছে সে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি, চিনতাই, মাদক মামলা, আইনের কাজে বাঁধাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। বরুড়া থানায় তার বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, সে নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয় দেয়। দিনে হোন্ডায় করে চাপাতি ও পিস্তল বহন করে। বিয়ে বাড়ি, বাজারের দোকান, নতুন ভবন তৈরি, এলাকার উন্নয়ন মূলক কাজে তাকে টাকা না দিলে সে হত্যার হুমকি দেয়।

এলাকাবাসী আরও জানায়, সে মামলার আসামী হয়ে, আমাদের পুলিশের ভয় দেখায়। আমাদের নাকি মামলা দেবে, পুলিশ তার পকেটে থাকে। প্রতিবার গ্রেফতারের এক মাসেরও কম সময়ে সে জামিন পেয়ে যায়। আবার শুরু করে ডাকাতি কর্মকান্ড।

চিতড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ডা. আব্দুল হাকিম জানান, মনির কোন সময় আওয়ামীলীগ বা কোন সহযোগী সংগঠনের নেতা বা কর্মী ছিলো না। তার একটি বখাটে গ্রুপ আছে, সে এ গ্রুপের সাথে কাজ করে। তার বিরুদ্ধে আর বেশী কিছু বলতে পারবো না।

চিতড্ডা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক ও ঝলম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, দিনে দোকানে দোকানে চাঁদাবাজি, রাতে ডাকাতি, মানুষকে হত্যার হুমকি, বকেয়া আদায়ের নামে চাঁদাবাজি, নবদম্পতিকে হেনেস্তা, স্কুল-কলেজ ছাত্রীদের বিরক্ত করাসহ সে বহু খারাপ কাজের সাথে জড়িত তার ভয়ে এলাকার মানুষ কথা বলে না।

ওড্ডা গ্রামের একজন চা দোকানী জানান, মাইন্যা ডাকাত ও তার বাহিনীর লোকেরা দোকানের বাকী টাকা দেয় না। ৫-৭ জন দোকানে আসলে ১৫০-২০০ টাকা বাকী রেখে যায়।

বরুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) সত্যজিৎ বরুয়া বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। বরুড়া থানা পুলিশ তাকে বহুবার গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ডাকাতির মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের পর সে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়।

চান্দিনা থানা ওসি মো. আবুল ফয়সল জানান, মনিরের নেতৃত্বে ফরহাদের বাড়িতে হামলা করে ডাকাত দল। স্থানীয়রা গ্রেফতার করে পুলিশে কাছে হস্তান্তর করে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা দেওয়ার পর বুধবার তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।