কুমিল্লার চান্দিনায় এই প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত একজন মেয়ে (১৯) উপজেলা সদরের মধ্য বাজারে অবস্থিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাব টেকনেশিয়ান।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে পজেটিভ ফলাফল আসে। তবে করোনা আক্রান্ত ওই রোগীর কোনো উপসর্গ দেখা দেয় নি।

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানুল হক ওই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আরো জানান, রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল। তাকে চিকিৎসা পদ্ধতি ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এর আগে রোববার তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর-এ পাঠায় কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। আক্রান্ত মেয়েটি অবিবাহিত। তার বাড়ি চান্দিনা উপজেলার এতবারপুর উত্তর পাড়া গ্রামে।

ওই রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আক্রান্তের এতবারপুরে তার গ্রামের বাড়িতে ৬টি পরিবারকে লকডাউন করে চান্দিনা উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া তাকে বহনকারী পার্শ্ববর্তী মধুসাইর গ্রামের একজন রিকশা চালকের ১টি পরিবারও লকডাউন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএনও স্নেহাশীষ দাশ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ওসি মো. আবুল ফয়সল।

রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দত্ত মেডিকেল হল নামের একটি ফার্মেসিও লকডাউন করা হয়। এর আগে ১১ এপ্রিল শনিবার মেয়েটির কর্মস্থল দত্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার লকডাউন করে প্রশাসন। রোববার মেয়েটিসহ ওই ডায়াগনস্টিকের ৪জন কর্মীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাযায়, দেবীদ্বার উপজেলার নবিয়াবাদ গ্রামের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী জীবন কৃষ্ণ সাহার মৃত্যুর আগে গত ৪ এপ্রিল চান্দিনার দত্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কয়েকটি পরীক্ষা করিয়েছিলেন। এসময় ওই মেয়েটি পরীক্ষার জন্য রোগীর রক্ত সংগ্রহ করেছিল।

অপরদিকে করোনায় মৃত রোগী জীবন কৃষ্ণ সাহাকে চিকিৎসা দেয়া পল্লী চিকিৎসক অসিত সেন লিটন, তার ভাই ও কর্মচারীদের ১৪দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। পল্লী চিকিৎসকের জেএম সেন ফার্মেসিও বন্ধ করেছে প্রশাসন।

৪ এপ্রিল করোনা রোগীর রক্ত পরীক্ষা করার পর ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দত্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার খোলা ছিল। এই সময়ে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার শত শত রোগী ও মানুষ আসা-যাওয়া ও পরীক্ষা করিয়েছেন। ফলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত মেয়েটি বাড়ি থেকে চান্দিনা আসা-যাওয়া করেছে। তার ব্যবহৃত যানবাহন ও যাত্রীদের মধ্যেও করোনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

চান্দিনার ইউএনও স্নেহাশীষ দাশ জানান, আক্রান্ত রোগীর বাড়িসহ ৭টি পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া দত্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও দত্ত মেডিকেল হল নামের দুটি প্রতিষ্ঠানও লকডাউন করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে লকডাউন করা পরিবারগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করবেন।