কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান নিখোঁজের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও কোন সন্ধান মিলেনি। বিকাশে মুক্তিপণ পাঠিয়েও মুক্তি মিলেনি। প্রবাসী নাজিম উদ্দীনের পরিবারের ধারণা স্ত্রী-সন্তানকে অপহরণ করা হয়েছে। এবিষয়ে থানায় সাধারন ডাইরী করা হলেও পুলিশের দৃশ্যমান কোন তৎপতা নেই। অপরদিকে পুলিশ বলছে বিষয়টি রহস্যজনক। এ নিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা অজানা আশংকায় দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসীর পরিবারের সদস্যরা জানান, চৌদ্দগ্রাম চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গীশ্বর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে নাজিম উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব প্রবাসী। তার স্ত্রী নাইমা আক্তার (৩০) দুই শিশু সন্তান নাফিসা-(১১) ও আসফী (৭) কে নিয়ে ফেনী শহরে বাসা ভাড়া করে থাকেন সন্তানদের পড়াশুনার সুবির্ধাথে। বর্তমানে নাজিমউদ্দিন প্রবাসে রয়েছেন। তার স্ত্রী ও সন্তানরা কোরবানীর ঈদে ফেনী থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। স্বামীর বাড়িতে ঈদ করে ঈদের পর স্বামীর বাড়ি থেকে পাশ্ববর্তী কনকাপৈত ইউনিয়নে বুদ্দিন গ্রামে বাপের বাড়িতে বেড়াতে যান। গত সোমবার ( ১০ আগস্ট) বিকালে নাইমা আক্তার সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়ি থেকে ফিরার পথে সিএনজি থেকে নেমে ধোড়করা বাজারে নামেন বাজার করার জন্য। ওইখানে সে ছেলের জন্য ঔষধ সহ কেনাকাটা করেন। তার সঙ্গে দুই শিশু সন্তান নাফিসা-(১১) ও আসফী (৭) ছিল । সন্ধ্যা হলেও তারা বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোনে কল করে ফোনটি বন্ধ পায়। আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি খোঁজ নিয়েও তাদের কোন সন্ধান না মিলাতে গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) এবিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন প্রবাসী নাজিম উদ্দিনের চাচা শশুর মো.মাহাবুবুল হক।

এ বিষয়ে প্রবাসীর স্ত্রী নাইমা আক্তারের খালাতো ভাই সাইফুল ইসলাম ও মো.সাহেদ জানান, নাইমা আক্তারের নাম্বার থেকে এক পুরুষ কন্ঠে কল দিয়ে চাচা মো.মাহাবুবুল হকের কাছে নাইমার সৌদি প্রবাসী বাবা মো.হানিফ এর নাম্বার নেন। পরে বাবার কাছে একই নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন। পরে একটি বিকাশ নম্বর পাঠান। ওই নাম্বারে দাবীকৃত টাকা পাঠালে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান। বৃহস্পতিবার রাতে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু এরপর থেকে ওই মোবাইলটি বন্ধ রয়েছে। আমরা আত্মীয়-স্বজনরা খুবেই দু:চিন্তায় রয়েছি।

মুঠোফোনে প্রবাসী নাজিম উদ্দীন জানান, আমার স্ত্রীর সাথে আমাদের পারিবারিক কোন বিরোধ নেই। কারো সাথে আমাদের কোন পারিবারিক বিরোধ নেই। প্রথমে ঘটনাটি নিখোঁজ মনে হলেও বিকাশে মুক্তিপণ চাওয়ার পর থেকে মনে হচ্ছে আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে কোন অপরাধী চক্র অপহরন করেছে। এ বিষয়ে আমরা থানায় জিডি করলেও পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগীতা চাই।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, আমরা বিষয়টি রহস্যজনক। আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। তদন্তের স্বার্থে বেশি কিছু বলতে চাই না।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: