মো.জাকির হোসেনঃ বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন আর আতঙ্কেও নাম নয়। অল্প কিছুদিন আগেও সড়ক পথে এই মহাসড়ক পারাপারে ৫/৬ ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে ১২/১৪ ঘন্টা সময় লেগেছে। যার বেশীরভাগ সময় কুমিল্লায় সড়কের উপর কেটেছে। তবে সেই দুর্ভোগ এখন আর নেই। চারলেনের মহাসড়ক পথে রাজধানী ঢাকা থেকে এখন এক/দেড়ঘন্টায় কুমিল্লায় বাড়ি ফিরছে যানবাহনে চড়ে মানুষ।

দেশের প্রধান জাতীয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। প্রতিদিন এই মহাসড়ক পথে রাজধানী ঢাকা,বন্দর নগরী সহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বা লের ১২ টি জেলার কমপক্ষে অর্ধশতাধিক গন্তব্যে হাজার হাজার বাস,ট্রাক,কাভার্ডভ্যান,কন্টেইনারবাহী লং ভেহিক্যাল,প্রাইভেটকার.মাইক্রোবাস চলাচল করে।

দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা সুত্রে জানা যায় এই মহাসড়কে প্রতিদিন প্রায় ২৬ হাজারের বেশী যানবাহন চলাচল করে। ব্যস্ততম এই মহাসড়ক হয়ে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম থেকে সারাদেশে মালামাল পরিবহন হচ্ছে। বিগত ২০১৬ সালে ফোরলেনে উন্নীত হলেও এই মহাসড়কের কাঁচপুর, মেঘনা ও মেঘনা – গোমতী সেতু দু’লেনের ছিল। এতে ফোরলেনের গাড়িগুলো দু’লেনের সেতুতে এসে আগে পারাপারের চেষ্টার কারণে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হতো। এক সময় সেটা মাইলের পর মাইল বিস্তৃত হতো। ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা থেমে যেত গাড়ির চাকা। এই যখন অবস্থা ছিল তখন চলতি বছরের ২৬ মে মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী চারলেনের সেতু উদ্বোধন বদলে দেয় মহাসড়কের চিত্র। যানজট এখন নেই মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী একাধিক পরিবহনের অনেকেই জানান, আগে চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকা থেকে যাত্রা করে কখন কুমিল্লা পার হবো সেই ভাবনায় থাকতাম। কেননা মহাসড়কের মুল জ্যাম ছিল কুমিল্লা অংশের ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট থেকে দাউদকান্দি টোলপ্লাজা পর্যন্ত। এখন আর সেই ভাবনা নেই। ফোরলেনের ব্রীজ চালুর পর ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতে ৫ ঘন্টার বেশী সময় লাগেনা। একই অবস্থা কুমিল্লার মানুষের ক্ষেত্রেও । মহাসড়কে তীব্র যানজটের কবলে পড়ে শত শত মানুষ রেলপথে ভীড় করতো নির্দিষ্ট সময়ে কোন ঝামেলা ছাড়াই ঢাকা পেীঁছতে। বর্তমানে মহাসড়কে কোন যানজট না থাকায় কুমিল্লা থেকে অনেকেই ঢাকায় অফিস কিংবা ব্যবসা করছে নিরাপদে। আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষেও তাই মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে কোন যানজট নেই। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এবং মহাসড়কের উপর দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকায় মাঝে মাঝে টোল আদায়ে ধীরগতি ,দাউদকান্দির গেীরীপুর ,ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনার মাধাইয়া , বাগুও বাস ষ্ট্যান্ড , নিমসার বাজার , সদর উপজেলার ময়নামতি সেনানিবাস, সদর দক্ষিনের কোটবাড়ি নন্দনপুর , পদুয়ারবাজার , সয়াগাজী , চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার ও উপজেলা সদর এলাকায় সড়কের উপর গড়ে উঠা অবৈধ মাইক্রো ষ্ট্যান্ডগুলোর কারণে এসবস্থানে গাড়ির গতি কিছুটা কমে যায়। ফলে টানা যানজট না থাকলেও কিছুটা ধরগতিতে গাড়ি চালাতে বাধ্য হন বিরতিহীন দ্রুতগতির যানবাহনগুলো।

হাইওয়ে পূর্বা ল (কুমিল্লা) পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের কোথাও যানজট নেই। তবে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ রয়েছে। পদুয়ারবাজার , ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট, নিমসার , কাবিলা , চান্দিনা , মাধাইয়া , ইলিয়টগঞ্জ ,দাউদকান্দি এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।