ঢাকা সিটির মেয়র আলোচনায় কুমিল্লার কৃতি সন্তান আতিকুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিবেদনঃ সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)’র মেয়র পদে আ’লীগের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি, কুমিল্লার কৃতি সন্তান মোঃআতিকুল ইসলাম।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। দলের উচ্চপর্যায়ের লক্ষ্য কোনো একজন ব্যবসায়ী নেতা। এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামকে প্রার্থী করা হচ্ছে। তাঁকে এ বিষয়ে সবুজ সংকেতও দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, গত শনিবার গণভবনে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে ডিএনসিসি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, তাঁর সঙ্গে আগ্রহী অনেকেই দেখা করেছেন, আগ্রহ দেখিয়েছেন। গণমাধ্যমেও অনেক নাম এসেছে। তিনি অনেকগুলো নামও বলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হচ্ছেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও আরেক সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, ব্যবসায়ী আবদুস সালাম মুর্শেদী, আওয়ামী লীগের ঢাকা উত্তর কমিটির সভাপতি ও ব্যবসায়ী এ কে এম রহমত উল্লাহ, চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী, আওয়ামী লীগের ঢাকা উত্তর কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, সাবেক সাংসদ এইচ বি এম ইকবাল প্রমুখ। তখন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৃত আগ্রহী কে সেটা আগে জানা দরকার। আর কাকে প্রার্থী করলে জয়ী হওয়া যাবে—এটাও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে জরিপও চালানো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, এ সময় প্রধানমন্ত্রী নেতাদের প্রশ্ন করেন আতিকুল ইসলাম কেমন? তাঁকে নিয়ে এগোনো যায় কি না? এটাকেই দলীয় প্রধানের সবুজ সংকেত বলে মনে করছেন নেতারা।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গত সপ্তাহে আতিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বাসায় গিয়ে দেখা করেছেন। রাজধানীর ফার্মগেট, বিজয় সরণি ও মিরপুর এলাকায় আতিকুল ইসলামকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ‘মেয়র হিসেবে দেখতে চাই’ এমন বক্তব্যসংবলিত পোস্টারও দেখা গেছে। ওই সূত্র জানায়, আইনি জটিলতা থাকলেও ডিএনসিসিতে ভোট হবে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ এগিয়ে রাখতে চায় দলটি। আতিকুল ইসলাম ব্যবসায়ী নেতা হলেও রাজনৈতিক পরিচিতি তাঁর নেই। এখন থেকেই দলীয়ভাবে তাঁকে পরিচিত করে তোলার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ফারুক খান প্রথম আলোকে বলেন, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী রাজনীতিক ও নাগরিক সমাজ-সব শ্রেণির প্রার্থীই আছে। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আতিকুল ইসলাম সম্পর্কে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মূল্যায়ন হচ্ছে তাঁর বদনাম নেই, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি আছে। পারিবারিকভাবেও তাঁদের একটা অবস্থান আছে। তাঁর ভাই তাফাজ্জাল ইসলাম প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিলের রায় দেন। তাঁর আরেক ভাই মইনুল ইসলাম সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান ছিলেন। বিডিআর বিদ্রোহের পর তাঁকে এই বাহিনীর প্রধান করা হয় এবং তাঁর আমলেই বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) করা হয়। গুলশান-বারিধারার মতো অভিজাত এলাকা নিয়ে গঠিত এই সিটি করপোরেশনের জন্য পারিবারিকভাবে পরিচিত ও ব্যবসায়ীকে বেছে নিলে সুফল মিলবে।

জানতে চাইলে আতিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ব্যবসায়ী সংগঠনের রাজনীতি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ডিএনসিসির মেয়র পদে তাঁকে বিবেচনা করায় তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। তিনি বলেন, প্রয়াত আনিসুল হক নগরের অনেক সমস্যা চিহ্নিত করে কাজ এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তাঁকে সুযোগ দেওয়া হলে বাকি কাজ সম্পন্ন করবেন। আধুনিক নগরী গড়ে তেলার জন্য নতুন নতুন ভাবনা যুক্ত করবেন।